পুরুলিয়ার মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম বিতর্ক: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ অভিভাবকদের

পুরুলিয়ার মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করায় বিতর্ক। অভিভাবকরা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন। সরকার ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২ জুন ২০২৬: রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাদ্রাসাগুলিতেও প্রতিদিন প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পুরুলিয়ার মাদ্রাসা বিদ্যালয়গুলিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিভাবকরা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন এবং এই নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা করছেন।

গত ১৩ মে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর একটি নির্দেশিকা জারি করে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করে। এরপর ১৯ মে মাদ্রাসা শিক্ষা ডিরেক্টরেটও একই নির্দেশ জারি করে। রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছিলেন, অন্যান্য সরকারি স্কুলে যদি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক হয়, তাহলে মাদ্রাসাকে আলাদা রাখা হবে কেন। তবে পুরুলিয়া মাদ্রাসা ইসলামিয়া হাই মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে এই গান গাওয়া নিয়ে প্রবল আপত্তি দেখা দিয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ইসলাম ধর্মে একেশ্বরবাদের ধারণার সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-এর কিছু শব্দের সংঘাত তৈরি হচ্ছে, যা তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হানছে। এছাড়াও, ছাত্রছাত্রীরা উর্দুতে পড়াশোনা করায় সংস্কৃত ভাষার এই গান উচ্চারণ করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক প্রশাসনিক নির্দেশ পালনের কথা বললেও, অভিভাবকদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার কারণে সরকারের পুনরায় আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। শিক্ষক মহলও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর এমন নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়া উচিত কিনা, তা নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।