ব্যুরো নিউজ, ৬ জুন ২০২৬ঃ গঙ্গাসাগর পুণ্যার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে চলেছে। ২০২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হওয়ার আগেই পুণ্যভূমি গঙ্গাসাগরকে দেশের মূল রেল মানচিত্রে যুক্ত করার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। সব কিছু ঠিকঠাক চললে, খুব শীঘ্রই সরাসরি রেলপথে কপিল মুনির আশ্রমে পৌঁছানোর সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে কলকাতা বা তার আশপাশের এলাকা থেকে গঙ্গাসাগর যেতে শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ বা নামখানা পর্যন্ত ট্রেনে যেতে হয়। এরপর বাস বা অটোতে লট ৮ জেটি ঘাটে পৌঁছে ভেসেল বা লঞ্চে মুড়িগঙ্গা নদী পেরিয়ে কচুবেরিয়া ঘাটে পৌঁছাতে হয়।
এই দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রাপথে পুণ্যার্থীদের নাজেহাল দশা হয়। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী ২০২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের আগেই গঙ্গাসাগরকে দেশের মূল রেল মানচিত্রে জুড়ে দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নবান্ন সভাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো ও রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এক দীর্ঘ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বাংলার জন্য ১০টি মেগা ঘোষণা করা হয়েছে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো জানান, বাংলায় রেলের সামগ্রিক রূপান্তরে কেন্দ্র ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এছাড়াও, ১০২টি ‘অমৃত ভারত’ স্টেশন তৈরি এবং যানজট এড়াতে রাজ্যজুড়ে ৫৩৮টি আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে বাংলার রেল প্রকল্পের জন্য রেকর্ড ১৪,০২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে ৪০টিরও বেশি আটকে থাকা রেল প্রকল্পের জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) দিয়েছে, যা সমন্বয়ের এক নতুন নজির। এই প্রকল্প সফল হলে নদী পারাপার বা বারবার গাড়ি বদলানোর ঝামেলা এড়িয়ে সরাসরি ট্রেনে গঙ্গাসাগর পৌঁছানো যাবে।







