নদীর চর দখল করে ‘প্রমোদ ভবন’? তৃণমূল বিধায়কের বৃদ্ধাশ্রমে শুনানির নোটিস, শোরগোল ক্যানিংয়ে

ক্যানিংয়ে তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের বিরুদ্ধে নদীর চর দখল করে বৃদ্ধাশ্রমের নামে 'প্রমোদ ভবন' তৈরির অভিযোগ। শুনানির নোটিস জারি, শোরগোল।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ জুন ২০২৬ঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাতলা নদীর চর দখল করে বৃদ্ধাশ্রমের আড়ালে ‘প্রমোদ ভবন’ তৈরির অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়েছে এলাকায়। বিজেপি এই বিষয়ে প্রশাসনিক মহলে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর মহকুমা শাসকের নির্দেশে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে বিধায়কের ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’-এ শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৮ জুন এই বিষয়ে কাগজপত্র নিয়ে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই বৃদ্ধাশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও বিজেপির দাবি, এটি বৃদ্ধাশ্রম নয়, বরং অবৈধ কার্যকলাপের আড্ডা। লোক দেখানো কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে রেখে আড়ালে রিসর্ট ও ‘প্রমোদ ভবন’ চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিধায়কের নির্দেশে নদীর চরের একাংশ বিক্রিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও বিধায়ক পরেশ রাম দাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাঁর দাবি, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই আইনি পথে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয়েছে এবং তাঁর কাছে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্যই এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু এই বৃদ্ধাশ্রমই নয়, নদীর চরে গড়ে ওঠা আরও কিছু অবৈধ নির্মাণেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার পুত্র ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধেও মাতলা নদীর চর দখল করে ক্যাফে তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনাগুলি ক্যানিংয়ের নদী তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ দখলদারির এক গুরুতর চিত্র তুলে ধরছে।