ব্যুরো নিউজ, ৭ জুন ২০২৬ঃ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পাল খুনের ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভে নিজের ফ্ল্যাটে খুন হওয়া এই অধ্যাপিকার হত্যাকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই অভিযুক্ত দম্পতি প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে দিল্লি এসে এই নৃশংস খুন করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবস্মিতা পাল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ছিলেন এবং পূর্ব দিল্লির সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে একা থাকতেন। অভিযুক্ত দম্পতি বর্ধমানের বাসিন্দা এবং দেবস্মিতার পৈতৃক বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। দেবস্মিতার দাদুর মৃত্যুর পর বাংলার ওই মূল্যবান সম্পত্তির মালিকানা তাঁর হাতে আসে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সেই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছিল এবং দেবস্মিতা তাঁদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এই কারণেই খুনের পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন মুখে মাস্ক পরে অভিযুক্ত দম্পতি তাঁদের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভাড়ার গাড়িতে করে আবাসনে পৌঁছন। সিসিটিভি ফুটেজে এই দৃশ্য ধরা পড়েছে। লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় উঠে পরিচিত হওয়ার সুবাদে তাঁরা সহজেই দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন।
তদন্তকারীদের অনুমান, সঙ্গে আনা অস্ত্র দিয়ে অধ্যাপিকাকে খুন করা হয়। খুনের পর পোশাক বদলে প্রায় আধ ঘণ্টা পরে তাঁরা আবাসন থেকে বেরিয়ে যান। গত বৃহস্পতিবার দেবস্মিতার বোন দেবারতি ফোনে না পেয়ে ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখেন দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দিদির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেন তিনি। মাথায় গভীর আঘাত এবং হাতের শিরা কাটা অবস্থায় দেহ পাওয়া গেলেও, ঘরের নগদ টাকা ও গয়না অক্ষত থাকায় ডাকাতির তত্ত্ব উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের সাতটি দল চারটি রাজ্যে অভিযান চালিয়ে বর্ধমান থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।







