ব্যুরো নিউজ, ৭ জুন ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ৬০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিদ্রোহের পর এবার লোকসভাতেও বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে। দলের একাধিক সাংসদ দিল্লিতে শিবির গড়েছেন এবং লোকসভা স্পিকারের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহল এই ঘটনাকে তৃণমূলের জন্য এক বড় ধাক্কা বলে মনে করছে।
সূত্রের খবর, বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে লোকসভার অন্তত ১০ জনের বেশি সাংসদ সক্রিয় সমর্থন জানিয়েছেন। মোট ২০ জনের মতো তৃণমূল সাংসদ বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এঁরা দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং সাংগঠনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিদ্রোহী সাংসদরা দিল্লিতে সমবেত হয়ে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
চিঠিতে তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলের নেতা হিসেবে আর স্বীকার না করার কথা জানাতে পারেন। কেউ কেউ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নতুন নেতা হিসেবে দেখতে চাইছেন। কাকলি সম্প্রতি দলের বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। দিল্লিতে বিদ্রোহীদের এই তৎপরতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ। আগামীকাল তিনি অভিষেকসহ দিল্লি আসছেন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে।
তার আগেই দলের সাংসদদের একাংশের এই বিদ্রোহ তাঁকে চাপে ফেলেছে। মমতা এখনও অনেক সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে বিদ্রোহীরা বলছেন, ফেরার পথ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিদ্রোহ আরও বড় আকার নিলে তৃণমূলের সংসদীয় দল ভেঙে যেতে পারে। ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জনের বিদ্রোহ হলে দল ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হবে।







