ব্যুরো নিউজ, ৮ জুন ২০২৬ঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে এক সভা থেকে তিনি জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারানো ৩১৫ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের একজন সদস্যকে চলতি জুন মাসেই সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, প্রতিটি পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যও প্রদান করা হবে।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠেছিল, যেখানে বহু বিজেপি কর্মী আক্রান্ত হন এবং অনেকে প্রাণ হারান। সেই সময় থেকেই আক্রান্ত পরিবারগুলি সুবিচারের আশায় দিন গুনছিল। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আইনি লড়াই চললেও, সেই সময়কার সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ ওঠে। অবশেষে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে এবং বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে।
নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতার এক জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় এলে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মীদের পরিবারকে সরকারি চাকরি ও সব রকমভাবে পুনর্বাসন দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন। এই ঘোষণার ফলে নিহত কর্মীদের পরিবারগুলির দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। এতদিন কতদিনে চাকরি মিলবে বা আদৌ মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর রবিবারের ঘোষণায় সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটেছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। এটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আর্থিক সুরক্ষাই দেবে না, বরং তাদের প্রতি ন্যায়বিচারের বার্তাও বহন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।







