ব্যুরো নিউজ, ১০ জুন ২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে ফের উত্তাপ। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা স্বপন সমাদ্দারকে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর এন্টালির বাসভবনে হানা দিয়ে কলকাতা পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় নারকেলডাঙা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার একটি ঘটনায় স্বপন সমাদ্দারের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেসময় এলাকায় অশান্তি ছড়াতে প্রত্যক্ষভাবে মদত ও উস্কানি দিয়েছিলেন। এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, রাজ্যের প্রাক্তন পুরনগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক বিজেপি কর্মী। তাঁর অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবিও জানানো হয়েছে।
অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৭ই নভেম্বর সন্দেশখালিতে এক জনসভা থেকে ফিরহাদ হাকিম মহিলাদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন। এই আবহে আরও অস্বস্তি বেড়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারেই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববির অভিযোগ, অভিষেকের নির্দেশেই তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান সহ একাধিক তৃণমূল কর্মী এই হামলায় জড়িত ছিলেন বলে এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জাহাঙ্গীর খান এবং তাঁদের সহযোগী একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশে মামলা দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, যা ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাগুলি ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।








