সায়নী ঘোষের ‘বিদ্রোহ’: তৃণমূলের অন্দরে সংকট আরও গভীর, অস্বস্তিতে মমতা-অভিষেক

তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ সংকট গভীর। সায়নী ঘোষের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ, লোকসভার স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে স্বাক্ষর। মালা রায়েরও যোগদানের জল্পনা। মমতা-অভিষেকের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১০ জুন ২০২৬ঃ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। বিধানসভায় পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার সংসদীয় দলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব কমছে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই আবহে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের নাম ঘিরে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে নাম লিখিয়েছেন সায়নী।

গত সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ২০ জন সাংসদের চিঠিতেও তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি সায়নী। রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সায়নী ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সম্প্রতি তাঁকে ফের তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাঁর নাম বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে জড়ানো স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য গভীর অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

শুধু সায়নী ঘোষই নন, দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়-ও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার রাতে স্বামী নির্বেদ রায়ের সঙ্গে দিল্লিতে পৌঁছেছেন তিনি। বুধবার কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, তাদের সঙ্গে থাকা সাংসদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।