ব্যুরো নিউজ, ১০ জুন ২০২৬ঃ নবগঠিত রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভায় পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক দপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণ করেই প্রাক্তন জমানার বিরুদ্ধে সরব হলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক ডক্টর শঙ্কর ঘোষ। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিগত ১৫ বছরের তৃণমূলী অপশাসনে পর্যটন ক্ষেত্রে যে নৈরাজ্য ও শৃঙ্খলাহীনতা চলেছে, এবার তার অবসান ঘটানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ডক্টর ঘোষের কথায়, “যেকোনো জিনিস শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে না হলে তার যে ফল, তা সেই অঞ্চলের ওপর পড়ে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের শীর্ষ স্তর থেকে দেওয়া রূপরেখা বা এসওপি (SOP) মেনেই তিনি কাজ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বক্তব্য বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, প্রাক্তন শাসক দলের আমলে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র পর্যটন কেন্দ্র গড়ার নামে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা তিনি কঠোর হাতে দমন করতে চলেছেন। তাঁর মতে, এতদিন পর্যটন মানেই ছিল কিছু চটকদারি উৎসব আর গুটিকয়েক নেতার পকেট ভরানোর ফন্দি। মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছর ধরে টিএমসি জমানায় পর্যটন বৃদ্ধির নামে আইন ভেঙে ও শৃঙ্খলাহীনভাবে কাজ হয়েছে, যা আখেরে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ক্ষতি করেছে।
উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দিঘা, সুন্দরবন পর্যন্ত সর্বত্র বেআইনি নির্মাণ, সিন্ডিকেট রাজ এবং পরিবেশ আদালতের নিয়ম লঙ্ঘনের যে উৎসব চলেছিল, নতুন মন্ত্রী প্রথম দিনেই তার ময়নাতদন্ত করলেন। ভোটবাক্সে মানুষ যে পরিবর্তনের রায় দিয়েছে, মন্ত্রীর এই আক্রমণ তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। একজন শিক্ষিত ও দূরদর্শী নেতার হাতে এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব আসায় পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আমজনতা আশার আলো দেখছে। এখন দেখার, শঙ্কর ঘোষের ‘শৃঙ্খলার দাওয়াই’ বিগত ১৫ বছরের জমে থাকা আবর্জনা কতটা দ্রুত পরিষ্কার করতে পারে।








