কর্ণাটকের ডান্ডেলি: অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতির মেলবন্ধনে এক অনন্য ভ্রমণ গন্তব্য

কর্ণাটকের ডান্ডেলি, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ও প্রকৃতির এক অসাধারণ মেলবন্ধন। জঙ্গল সাফারি, র‍্যাফটিং, কোরাকল বোটিং ও মনোরম দৃশ্যের অভিজ্ঞতা নিতে ঘুরে আসুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৫ জুন ২০২৬ঃ দক্ষিণ ভারতের ‘অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ক্যাপিটাল’ নামে পরিচিত কর্ণাটকের ডান্ডেলি প্রকৃতিপ্রেমী ও রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। পশ্চিম ঘাটের গভীর পর্ণমোচী অরণ্যে ঘেরা এই ছোট্ট শহরটি উত্তর কন্নড় জেলায় অবস্থিত। পৌরাণিক দণ্ডকারণ্য হিসেবে পরিচিত এই স্থানটি অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সারা দেশে জনপ্রিয়। একঘেঁয়ে কাজ থেকে ছুটি নিয়ে যারা নিরুদ্দেশের পথে পা বাড়াতে চান, তাদের জন্য ডান্ডেলি এক আদর্শ গন্তব্য। এখানে এলে পর্যটকরা ডান্ডেলি ওয়াইল্ড লাইফ স্যাঙ্কচুয়ারিতে জঙ্গল সাফারি উপভোগ করতে পারেন। এটি ২০০৬-০৭ সালে ব্যাঘ্র প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং প্রায় ৮৩৪ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

এই অভয়ারণ্য ব্ল্যাক প্যান্থার, চিতাবাঘ, হাতি, বাইসন এবং ৩০০ প্রজাতির পাখির আবাসস্থল। হুডখোলা জিপে গাইড-সহ জঙ্গল ঘোরার অভিজ্ঞতা আজীবন মনে রাখার মতো। কালী নদী এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ, যেখানে হোয়াইট ওয়াটার র‍্যাফটিং, কায়াকিং এবং ক্যানোয়িংয়ের মতো রোমাঞ্চকর জলক্রীড়ার সুযোগ রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কোরাকল বোটিংয়ের অভিজ্ঞতাও এখানে পাওয়া যায়। ডান্ডেলি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিরোলি পিক উত্তর কন্নড় অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিন্দু, যা পশ্চিম ঘাট পর্বতমালা এবং সমগ্র ডান্ডেলি অভয়ারণ্যের এক অসাধারণ প্যানোরামিক দৃশ্য উপহার দেয়।

এছাড়া, চুনাপাথরের তৈরি প্রাচীন কাভালা গুহায় প্রাকৃতিক স্ট্যালাগটাইট ও স্ট্যালাগমাইটের স্থাপত্য দেখা যায়। অক্টোবর থেকে মে মাস ডান্ডেলি ভ্রমণের জন্য আদর্শ। বিশেষ করে অক্টোবর ও নভেম্বর মাস পাখিপ্রেমীদের জন্য সেরা সময়। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়া ভালো। কলকাতা থেকে আকাশপথে বেলগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছে বা বেঙ্গালুরু হয়ে ডান্ডেলি পৌঁছানো যায়। নিকটবর্তী ট্রেন স্টেশন ধরওয়াদ থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দূরে। প্রকৃতির কোলে নিরিবিলিতে রাত্রিযাপনের জন্য এখানে বেশ কিছু রিসর্ট রয়েছে, যা আগে থেকে বুক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।