স্যারের বিবাহবার্ষিকীতে মিডডে মিলের মাংস! নদীয়ার স্কুলে তুমুল শোরগোল

নদিয়ার শান্তিপুরের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিবাহবার্ষিকীতে মিডডে মিলের মাংস ব্যবহারের অভিযোগ। অভিভাবক ও কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তেজনা, পুলিশ ঘটনাস্থলে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২ জুলাই ২০২৬ঃ নদিয়ার শান্তিপুরে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিলের মাংস শিক্ষকের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শান্তিপুরের নতুন পাড়া জনকল্যাণ বুনিয়াদি শিক্ষালয়ে এক শিক্ষকের বিবাহবার্ষিকী পালনের জন্য পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ মাংস ও অন্যান্য খাবার সরিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও মিডডে মিল কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের পালা শুরু হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, মিডডে মিল কর্মীরা নিয়মিত ডিম, মাংস-সহ বিভিন্ন খাবার বাড়ি নিয়ে যান। অন্যদিকে, মিডডে মিল কর্মীদের অভিযোগ, শিক্ষকরাই ছাত্রদের খাবার আলাদা করে রান্না করে নিজেরা খান এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করেন। বৃহস্পতিবার এমনই এক শিক্ষকের বিবাহবার্ষিকী পালনের জন্য মিডডে মিলের মাংস আলাদা করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। খবরটি জানাজানি হতেই অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অনামিকা সাহা অনুষ্ঠানের কথা স্বীকার করলেও, খাবার চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে রান্নার কর্মীদের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানের জন্য মাংস বাইরে থেকে কেনা হয়েছিল। যদিও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে সরকারি বরাদ্দ খাবারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যে মিডডে মিল নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়।

পচা চাল বা খাওয়ার অযোগ্য খাবার সরবরাহের অভিযোগ প্রায় নিত্যদিনের। সম্প্রতি ইসকনকে মিডডে মিল বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া এবং নিরামিষ খাবার সরবরাহ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এল, যা মিডডে মিলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।