ব্যুরো নিউজ, ৫ জুলাই ২০২৬ঃ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সময় মতো উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা না পড়ায় রাজ্যজুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জেলায় জেলায় এই প্রকল্পের ফর্ম অ্যাপ্রুভাল ও বাতিল হওয়া নিয়ে ব্যাপক শোরগোল চলছে। অভিযোগ, সমস্ত শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও বহু মহিলার ফর্ম বাতিল হচ্ছে অথবা তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মহিলারা। বিশেষত, ধূপগুড়ি পৌরসভা চত্বরে গত বৃহস্পতিবার ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় মহিলারা।
তাঁদের দাবি, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১ জুলাই থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। বিক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এমনকি এলাকার বিধায়ককেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ধূপগুড়ি পৌরসভার ৩২ জন কর্মীকে শোকজ করেছেন পৌর প্রশাসক। তাঁদের বিরুদ্ধে ফর্ম যাচাই এবং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন না করার অভিযোগে গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। শোকজ হওয়া কর্মীদের শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে সমস্ত নথিপত্র সহ এসডিও-র সামনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও শোকজ প্রাপ্ত কর্মীরা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাঁদের দাবি, তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কোনো আর্জি না শুনেই তাঁদের শোকজ করা হয়েছে। এই শোকজ নোটিশকে ঘিরে পৌর কর্মচারী সংগঠনের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অল বেঙ্গল মিউনিসিপ্যালিটি ওয়ার্কম্যানস ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক রাজেন্দ্র প্রসাদ ঘোষ কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন প্রকল্পের চাপ সামলাতে কর্মীরা দিনরাত এক করে কাজ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উচিত ছিল কর্মীদের সাথে কথা বলে প্রকৃত সমস্যাটি বোঝা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো।








