ব্যুরো নিউজ, ১৯ জুলাই ২০২৬ঃ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অবশেষে স্বস্তি পেল তৃণমূল শিবির। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার পাঁচতলা কার্যালয় ভাঙার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে উচ্চ আদালত। জেলা প্রশাসনের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’-এর মাঝেই রবিবার দুপুর ১:৩০ নাগাদ বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে এক জরুরি শুনানি শেষে এই মহানির্দেশ আসে। শনিবার সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন আমতলা-বারুইপুর রোডের উপর অবস্থিত এই ভবনটির একাংশ ভাঙার কাজ শুরু করেছিল।
প্রশাসনের দাবি ছিল, এই পাঁচতলা অফিসটির কোনো বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান বা নকশা অনুমোদিত ছিল না। জমিটি ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থার নামে নথিভুক্ত। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, গত জুন ও জুলাই মাসে নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও মালিকপক্ষের কেউ হাজির হননি, যার জেরেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বা চলতি জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত (যা আগে আসবে) এই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি বহাল থাকবে। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ভবনটির মালিকপক্ষকে ভাঙার আগে নিজেদের বক্তব্য জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এই জরুরি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি চলে। তৃণমূলের পক্ষে জোরদার সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কিশোর দত্ত ও অয়ন ভট্টাচার্য। আদালতের এই আকস্মিক পদক্ষেপে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান আপাতত থমকে গেল। ভবনটি ঠিক কী নিয়মে তৈরি হয়েছিল এবং কোনো আইনি বৈধতা মেনে তৈরি করা হয়েছিল কিনা, তার যাবতীয় রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবিলম্বে আদালতের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহলের নজর এখন প্রশাসনের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে।








