একুশের মঞ্চে মমতার সঙ্গে ‘ঝগড়া’র পর বিস্ফোরক কল্যাণ, ‘কালীঘাট সূত্রই শেষ করবে দলকে!’

একুশের মঞ্চে মমতার সঙ্গে বচসার পর বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুকে 'কালীঘাট সূত্র'কে নিশানা করে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২২ জুলাই ২০২৬ : একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ মঞ্চ থেকে ফের বিতর্কের সূত্রপাত। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘ বক্তব্য পেশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই প্রকাশ্যে তাঁদের মধ্যে বচসা হয় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান। এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মঙ্গলবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন শ্রীরামপুরের এই বর্ষীয়ান সাংসদ।

তাঁর অভিযোগ, ‘কালীঘাট সূত্রই দলটাকে শেষ করে দেবে।’ এই মন্তব্যের পর দলের অন্দরে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে একুশের মঞ্চে বক্তা হিসেবে ছাত্র ও যুব নেতানেত্রীদের নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া বক্তা তালিকার সকলকে তিনি মোটেই যোগ্য মনে করেননি। তাঁর এই মন্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও স্পষ্ট হয়েছে। বর্ষীয়ান সাংসদের এই ধরনের প্রকাশ্য ক্ষোভ উগরে দেওয়া তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরপরই মানিকতলার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডেও তা শেয়ার করে ‘কালীঘাট নেতৃত্ব’কে খোঁচা দেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একুশে জুলাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে দলের শীর্ষ নেত্রীর সঙ্গে একজন বর্ষীয়ান সাংসদের প্রকাশ্য বচসা এবং তার পরবর্তী সোশাল মিডিয়া পোস্ট, দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলার উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘কালীঘাট’ ছেড়ে অন্য শিবিরের দিকে পা বাড়াচ্ছেন? আসন্ন দিনে তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।