লোকসভায় পাশ ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল ২০২৬: বিরোধীদের বিক্ষোভের মাঝেই নতুন আইনে কী বদল?

বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই লোকসভায় পাশ ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল ২০২৬। নতুন আইনে ন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালস কমিশন তৈরি সহ কী কী বদল আসছে, জানুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১০ আগস্ট ২০২৬: বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানের মধ্যেই সোমবার লোকসভায় পাশ হল ট্রাইব্যুনালস রিফর্মস বিল, ২০২৬। নিট প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহির দাবিতে সরব ছিল বিরোধীরা। এই উত্তাল পরিস্থিতিতেই আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বিলটি পেশ করেন এবং বিতর্ক ছাড়াই তা পাশ হয়ে যায়। নতুন বিলের মূল লক্ষ্য হল বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের নিয়োগ, যোগ্যতা ও সদস্যদের চাকরির শর্তে অভিন্ন কাঠামো তৈরি।

এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব একটি স্বাধীন ন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালস কমিশন গঠন। দিল্লিতে সদর দফতর সহ এই কমিশন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দেখভাল করবে। কমিশনে একজন চেয়ারম্যান, দুজন বিচারবিভাগীয় ও দুজন কারিগরি সদস্য থাকবেন। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এর চেয়ারম্যান হতে পারবেন। ২০২১ সালের ট্রাইব্যুনালস রিফর্মস অ্যাক্ট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরই নতুন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।

আদালত বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথকীকরণের নীতির সঙ্গে ২০২১ সালের আইনের কিছু বিধানের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সদস্য নিয়োগে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও আদালত জানিয়েছিল। কেন্দ্রের দাবি, এই নতুন আইন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ট্রাইব্যুনালের কাজকর্মে দক্ষতা আনবে। বিরোধীরা বিলটির বিরোধিতা করে নোটিস দিলেও, হইহট্টগোলের মধ্যে তাঁদের বক্তব্য রাখার সুযোগ হয়নি, ফলে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাশ হয়। কার্যকর হলে ন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালস কমিশন ট্রাইব্যুনালগুলির নিয়োগ ও পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।