মায়ানমারে বৌদ্ধ মঠে জুন্টার বিমান হামলা, নিহত ১৪ ভিক্ষু ও মহিলা, আহত ২০

মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে বৌদ্ধ মঠে জুন্টার বিমান হামলায় ১৪ জন নিহত, আহত ২০। ২০২১ সাল থেকে সামরিক শাসনে জর্জরিত মায়ানমারে গৃহযুদ্ধ অব্যাহত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২১ আগস্ট ২০২৬: মায়ানমারে গৃহযুদ্ধের আবহে ফের রক্তাক্ত হল বৌদ্ধ মঠ। সেদেশের সামরিক জুন্টার বিমান হামলায় সাগাইং অঞ্চলের একটি বৌদ্ধ মঠে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ হামলায় ২০ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে। নিহতদের মধ্যে ভিক্ষু ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন মহিলাও রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে মিয়াউং টাউনশিপের ‘সোয়েল লে ওহ’ গ্রামের ওই মঠে এক সপ্তাহব্যাপী ধ্যানের কার্যক্রম চলছিল। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময়েই জুন্টার বিমান থেকে পরপর দুটি বোমা ফেলা হয়। সকাল ৯টা নাগাদ এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিহতদের দেহ কবরস্থ করে নিকটবর্তী গ্রামে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিমানটি প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বোমা ফেলেছিল, যার দ্বিতীয়টির আঘাতে মঠের কাছে একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনা মায়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত। উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে মায়ানমার সেনার দখলে রয়েছে। প্রাক্তন সেনাকর্তা মিন আউং হ্লাইং-এর দল ক্ষমতায় আসার পরও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি, বরং দিন দিন তা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। উল্টে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেশের ভয়াবহ নৃশংসতার চিত্র উঠে এসেছে।

ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত ছ’মাসে সেনাবাহিনী অন্তত ৭০২ জন অসামরিক নাগরিককে খুন করেছে, যার মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও রয়েছে। আগস্টে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকে এই নৃশংসতা শুরু হয়েছিল এবং জানুয়ারিতে ভোটের ফলপ্রকাশ পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। এই হামলার ঘটনা মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সামরিক বাহিনীর অমানবিকতা আরও একবার তুলে ধরল, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে।