‘নারী সবার আগে নিজের’, সামাজিক খাঁচা ভাঙার ডাক রাহুলের, নিশানায় মনুস্মৃতি

পুণেতে রাহুল গান্ধীর নারীর স্বাধীনতা নিয়ে জোরালো বার্তা। 'নারী সবার আগে নিজের', মনুস্মৃতিকে আক্রমণ করে সামাজিক খাঁচা ভাঙার ডাক দিলেন তিনি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৩ আগস্ট ২০২৬: পুণেতে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে নারীর স্বাধীনতা ও নিজস্ব পরিচয় নিয়ে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, একজন নারী সবার আগে নিজের। এরপর তিনি কারও মেয়ে, বোন, স্ত্রী বা মা। সমাজের বেঁধে দেওয়া চিরাচরিত পরিচয় ও প্রত্যাশা যেন নারীর জীবনের গতিপথ নির্ধারণ না করে, সেই বিষয়ে জোর দেন রাহুল। শনিবার পুণেতে তরুণী ও বিভিন্ন পেশার মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন রাহুল।

তিনি বলেন, ভারতের প্রায় ৭০ কোটি নারীই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু সমাজ প্রায়শই তাঁদের স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে না দেখে পারিবারিক সম্পর্কের নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আটকে রাখে। তাঁর মতে, এই ভূমিকাগুলিকেই যখন নারীর পরিচয়ের শেষ সীমা বলে ধরে নেওয়া হয়, তখনই সমস্যা তৈরি হয়। রাহুল এই ‘খাঁচা’কে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক নিয়ন্ত্রণের রূপক হিসেবে তুলে ধরেন। বহু নারীর জীবন কোন পথে এগোবে, তা এখনও পরিবার বা সমাজ ঠিক করে দেয়। মনুস্মৃতিকেও তীব্র আক্রমণ করে রাহুল বলেন, এই গ্রন্থে নারীকে পুরুষ অভিভাবকের অধীনে রাখার যে ধারণা, তা নারীর স্বাধীনতা ও অগ্রগতির পরিপন্থী।

এই মানসিকতাই সমাজে নারীর স্বাধীন সত্তাকে অস্বীকার করার প্রবণতাকে শক্তিশালী করেছে। তাঁর বার্তা, সামাজিক প্রত্যাশা যেন কোনও নারীর জীবনের ‘খাঁচা’ হয়ে না ওঠে। সেই খাঁচা ভেঙেই তাঁকে নিজের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে। নারীর যোগ্যতা কোনও পুরুষের কাছে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই, নিজের উপর বিশ্বাস রেখে সামাজিক বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে তাঁদের।