ব্যুরো নিউজ , ২৩ আগস্ট ২০২৬: রাজ্যের শিক্ষাঙ্গন ও হাসপাতালগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্য শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছিলেন। বলা হয়েছিল, স্কুল-কলেজের পরিচালন সমিতি বা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতি—কোথাও রাজনীতিকদের রাখা হবে না। কিন্তু সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।
রাজ্যের ২৪৭টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে একের পর এক বিজেপি নেতাকে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাংসদ, বিধায়ক এবং মন্ত্রীরাও। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে এক অদ্ভুত যুক্তি দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার অর্থ হল বিশৃঙ্খলা ও হেনস্থা ঠেকানো। তাঁর কথায়, “কলেজের অধ্যাপিকাকে প্লাস্টিকের জলের জগ ছুড়ে মারা হয়েছিল। সেগুলো ঠেকানোর জন্য লোক দরকার তো। সে জন্যই এঁদের আনা হয়েছে।” অর্থাৎ, তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, কলেজে রাজনৈতিক দাপট ঠেকাতেই বিজেপির সাংসদ, বিধায়ক ও মন্ত্রীদের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে বসানো হয়েছে। তবে শমীকের এই যুক্তির মধ্যেই রয়েছে বড় অসঙ্গতি। তিনি যে ‘জলের জগ’ ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি ২০১৩ সালে ভাঙড় মহাবিদ্যালয়ে ঘটেছিল, যেখানে তৎকালীন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম এক শিক্ষিকাকে জগ ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আরাবুল সেই সময় ওই কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন।
অর্থাৎ, শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক দাপট ঠেকানোর প্রয়োজন বোঝাতে শমীক যে ঘটনা তুলে ধরলেন, সেটিই তাঁর যুক্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। কারণ, সেখানে বহিরাগত নয়, পরিচালন সমিতির রাজনৈতিক সভাপতির বিরুদ্ধেই আক্রমণের অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিশ্রুতি ছিল রাজনীতিকদের সরানোর, অথচ এখন সেই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফের রাজনীতিকদেরই গভর্নিং বডির মাথায় বসানো হল। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।








