ত্বিষা ২.০? দিল্লিতে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিরক্ষা আধিকারিকের রহস্যমৃত্যু, বিয়ের ৪ মাসেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, কাঠগড়ায় শ্বশুরবাড়ি

দিল্লিতে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিরক্ষা আধিকারিকের রহস্যমৃত্যু। বিয়ের ৪ মাসেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, বাপের বাড়ির অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। পুলিশি তদন্ত শুরু।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৩ আগস্ট ২০২৬: দিল্লির দ্বারকায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক অন্তঃসত্ত্বা আধিকারিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৩০ বছর বয়সী নাজিয়া খানম, যিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেকশন অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন, তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় এই ঘটনায় নাজিয়ার বাপের বাড়ির তরফে স্বামী আজম আলি খান ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ‘ত্বিষা ২.০?’ বলে প্রশ্ন তুলেছে অনেকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২১ অগস্ট ভোররাতে নাজিয়ার পরিবারের কাছে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। শ্বশুরবাড়ির তরফে এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও, নাজিয়ার পরিবার তা মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নাজিয়ার উপর স্বামী ও শাশুড়ি সামিন নিশা এবং শ্বশুর বাবর আলি খান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন, মারধর করতেন এবং প্রাণনাশের হুমকিও দিতেন। মৃত্যুর সময় নাজিয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। নাজিয়ার বাবা তাওয়াব খান সরাসরি তাঁর জামাইকে মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে নাজিয়াকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। অন্যদিকে, নাজিয়ার স্বামী পুলিশকে জানিয়েছেন যে ঘটনার আগে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর নাজিয়া একটি ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরে দরজা খুলে তাঁকে জানলার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ইতিমধ্যেই নাজিয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য দীনদয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের তরফে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ভিডিও রেকর্ড করার দাবি জানানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণের আর্জি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, পরিবারের সদস্যদের বয়ান এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। এই রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।