শালবনের বুকে পরবের আগমনী: আম্বিশোলে ৪০০ টাকায় বিকোচ্ছে ‘দুগ্গা ছাতু

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ও আশ্বিনের সন্ধিক্ষণে লাল মাটির ভিজে সোঁদা গন্ধের সঙ্গে জঙ্গলমহলে শুরু হয়েছে উৎসবের মরশুম। আজ একদিকে বিশ্বকর্মা পুজো ও কুর্মি সমাজের ‘গাড়ি পূজা’, অন্যদিকে সামনেই সহরাই এবং দুর্গাপূজা। এই উৎসবের আগমনী প্রকৃতি নিজেই জানিয়ে দিচ্ছে শালবনের মাটি ফুঁড়ে ওঠা বুনো মাশরুমের মাধ্যমে। স্থানীয়দের কাছে যা পরিচিত ‘পরব ছাতু’, ‘দুগ্গা ছাতু’ বা ‘কাড়ান ছাতু’ নামে ।

খড়িকামাথানী থেকে গোপীবল্লভপুর গামী রাজ্য সড়কে আম্বিশোল মোড়ে কাকভোরেই দেখা গেল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। জঙ্গল থেকে তুলে আনা এই তাজা ছাতুর দর উঠেছে কেজি প্রতি প্রায় ৪০০ টাকা। চড়া দাম সত্ত্বেও তা কিনতে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। খাঁটি সর্ষে-পোস্ত বাটা দিয়ে রান্না হোক বা তেল-লঙ্কায় ভাজা— স্বাদে এই ছাতু খাসির মাংসকেও টেক্কা দেয়। রসনার পাশাপাশি এটি জড়িয়ে প্রান্তিক অর্থনীতি ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে। শরতের কৃষিকাজহীন ‘আশ্বিনা-টান’-এর অভাবী দিনে জামাই-কুটুম্ব আপ্যায়নে দরিদ্র পরিবারের ভরসা এই ছাতু। ভোরবেলায় সাপ ও হাতির ভয় উপেক্ষা করে জঙ্গল থেকে এই ছাতু সংগ্রহ করে হাটে বিক্রি করে অনেকেই সংসারের বাড়তি আয়ের সংস্থান করছেন।

বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটি মূলত টার্মিটোমাইসিস প্রজাতির ছত্রাক। মাটির নিচের উইপোকার ঢিবির জৈব বর্জ্য ও উইপোকার লালার সঙ্গে প্রাকৃতিক মিথোজীবিতার মাধ্যমে এটি জন্মায়; কৃত্রিম উপায়ে এর ফলন অসম্ভব। প্রচুর প্রাকৃতিক গ্লুটামিক অ্যাসিড থাকায় এতে তীব্র মাংসের মতো স্বাদ মেলে। তাছাড়া এটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার ও আয়রনে ভরপুর। শালবনের এই বুনো ছাতুর হাত ধরেই অরণ্যভূমিতে বেজে উঠেছে উৎসবের আগমনী সুর।