নন্দীগ্রাম: তৃণমূলের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তে জেলে মিলন প্রধান, মমতাকে তীব্র আক্রমণ প্রাক্তন সতীর্থ সবুজের

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের জেল হেফাজত ঘিরে রাজনৈতিক তরজা। প্রাক্তন সতীর্থ সবুজ প্রধানের অভিযোগ, তৃণমূলের ভুলের কারণেই আজ জেলে মিলন। মমতাকে বিঁধলেন তিনি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে ফের উত্তাপ। বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের জেল হেফাজত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। প্রাক্তন সতীর্থ সবুজ প্রধান সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করে বলেছেন, তাদের একটি ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের কারণেই আজ মিলন প্রধানকে জেলে থাকতে হচ্ছে। নন্দীগ্রামের ভোট ময়দানে দাঁড়িয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন। ২০০৭ সালের ৫ জানুয়ারি গঠিত ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন মিলন প্রধান।

সেই সময়কার ১৫ সদস্যের কমিটিতে সবুজ প্রধানও ছিলেন। সবুজ ২০২০ সালে তৃণমূল ছাড়লেও মিলন প্রধান কংগ্রেসের প্রতি তাঁর আনুগত্য বজায় রাখেন। বর্তমান প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার মিলনকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করার জন্য এআইসিসির অনুমোদন জোগাড় করেন। সবুজ প্রধানের অভিযোগ, প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে তিনি বারবার বলেছিলেন, তৃণমূল আমলে যেমন নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তেমনই সিপিএমের বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলাগুলি প্রত্যাহার করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় পরবর্তীকালে নতুন করে মামলায় জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এই ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপই আজ মিলন প্রধানকে জেলা হেফাজতে থাকতে হচ্ছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মিলন প্রধানের জেলা হেফাজত বহাল রয়েছে। তাঁর পরিবার সম্ভবত সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর জেলমুক্তির জন্য আবেদন জানাতে পারে। এই প্রথম সম্ভবত কংগ্রেসের কোনও প্রার্থী জেলে থেকে নির্বাচনে লড়ছেন। এই ঘটনা নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং ভোটের আগে শাসকদলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে।