ব্যুরো রিপোর্ট, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ :সাইবার প্রতারণার কৌশল বদলাচ্ছে দ্রুত। এতদিন যেখানে সন্দেহজনক লিঙ্ক, OTP বা KYC-এর নামে ফাঁদ পাতার ঘটনা বেশি শোনা যেত, এবার সামনে এসেছে আরও অস্বাভাবিক একটি পদ্ধতি। লখনউয়ের এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অভিযোগ, WhatsApp-এ পাওয়া একটি ব্যাঙ্কিং অ্যালার্টের জেরেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটল?
ওই ব্যক্তির কাছে WhatsApp-এ একটি বার্তা আসে—তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ₹৯০ হাজার টাকা ডেবিট হয়েছে। তিনি এই লেনদেন করেছেন কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে তিনি ‘NO’ লিখে উত্তর দেন। তার ধারণা ছিল, এটি ব্যাঙ্কের পাঠানো সাধারণ লেনদেন সংক্রান্ত সতর্কবার্তা।
কিন্তু এরপরই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, তার একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট প্রায় ₹১.৭০ লক্ষ টাকা অননুমোদিতভাবে তুলে নেওয়া হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
লিঙ্ক নেই, OTP-ও নয়—তাহলে ফাঁদ কোথায়?
এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই। প্রচলিত সাইবার ফ্রডের মতো এখানে কোনও সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা বা OTP শেয়ার করার ঘটনা সামনে আসেনি। ফলে প্রতারকরা ঠিক কীভাবে ওই ব্যক্তির ফোন বা ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্যের নাগাল পেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনার প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখতে ফোন, WhatsApp অ্যাক্টিভিটি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন। শুধু একটি মেসেজে ‘NO’ রিপ্লাই করলেই সাধারণভাবে ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোরও আগে বিস্তারিত তদন্ত জরুরি।
WhatsApp-এ ব্যাঙ্কের মেসেজ? আগে যাচাই করুন
অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনও ব্যাঙ্কিং মেসেজে তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেবেন না। টাকা কাটা বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য জানতে সবসময় ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে যাচাই করুন। OTP, UPI PIN, CVV বা পাসওয়ার্ড কাউকেই দেবেন না।







