ব্যুরো নিউজ, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশ্বজুড়ে আসন্ন এক তীব্র খাদ্য ও জ্বালানি সংকট নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে, যার ফলে জীবনযাত্রার খরচ আকাশছোঁয়া হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও সারের সীমিত সরবরাহ এবং এল নিনোর প্রভাব।
জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে। তেলের বাজারে সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, “জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। বাজারে জ্বালানির সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত অবস্থায় রয়েছে।”
সারের ঘাটতি ফসল উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে, যা সরাসরি খাদ্য সংকটের কারণ হবে। কৃষ্ণ সাগর অঞ্চল দিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহণে সমস্যা দেখা দিলে গম, ভুট্টা ও অন্যান্য শস্যের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে দাম আরও বাড়বে। যেসব দেশ খাদ্য আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের ওপর চাপ আরও বেশি পড়তে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলি, যা ‘গ্লোবাল সাউথ’ নামে পরিচিত, এই সংকটের সবচেয়ে বেশি শিকার হবে বলে জয়শঙ্কর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এল নিনোর প্রভাবে কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টি বা খরা, আবার কোথাও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ফসল উৎপাদনে বাধা দেবে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে তেলের দাম আরও বাড়বে, যা কৃষি যন্ত্র চালানো, সার উৎপাদন এবং খাদ্য পরিবহণের খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এই সম্মিলিত প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতে চলেছে, যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।








