ব্যুরো নিউজ, ২ অক্টোবর ২০২৬: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক ব্যক্তির গণপিটুনিতে মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কামরাবাদ সংলগ্ন আম্বেদকর নগর এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম গোপাল হালদার। অভিযোগ, তিনি আরও দুই সঙ্গীর সঙ্গে একটি বাড়িতে হামলা চালাতে গিয়েছিলেন, যার জেরে স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনির শিকার হন। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোনারপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপাল হালদার-সহ তিন ব্যক্তি আম্বেদকর নগরের কেবো হাজরার বাড়িতে যান। অভিযোগ, তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তাঁরা ওই বাড়িতে হামলার চেষ্টা করেন। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। গোপালের দুই সঙ্গী পালিয়ে গেলেও তিনি ধরা পড়ে যান এবং উত্তেজিত জনতার হাতে বেধড়ক মার খান। তদন্তে উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক বছর আগে কেবো হাজরার ছেলে লাল্টু হাজরাকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। সেই খুনের ঘটনায় গোপাল হালদারের নাম জড়িয়েছিল এবং তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারের এই হামলার ঘটনা সেই পুরনো শত্রুতারই জের কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে পুরনো খুনের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ গোপালের সঙ্গে থাকা বাকি দুই ব্যক্তির পরিচয় এবং তাদের গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। সোনারপুরের এই ঘটনায় একদিকে বাড়িতে হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। তদন্ত শেষ হলেই ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।









