ব্যুরো নিউজ, ৩ অক্টোবর ২০২৬: ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের কেশররেখা রেঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় পায়ে সংক্রমণ নিয়ে যন্ত্রণায় কাতর এক দলছুট দাঁতালের চিকিৎসা শুরু করল বনদফতর। বেশ কিছুদিন ধরেই খুঁড়িয়ে চলা এই হাতিটিকে সুস্থ করতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। সরাসরি ইনজেকশন দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কলা ও আলুর ভেতরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ লুকিয়ে খাইয়ে সুস্থ করার প্রক্রিয়া চলছে।
বনদফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে কেশররেখা রেঞ্জ সংলগ্ন বনাঞ্চলে একা ঘুরছিল এই দলছুট দাঁতালটি। তার পায়ের হাঁটুর কাছে একটি ফোড়ার মতো ক্ষত তৈরি হয়েছিল, যার জেরে সে চলাফেরা করতে গিয়ে কষ্ট পাচ্ছিল। যন্ত্রণায় কাতর হলেও হাতিটি কাউকে তাড়া করেনি বা এলাকায় কোনওরকম তাণ্ডব চালায়নি। সমস্যা ছিল তার গতিবিধি নিয়ে; মাঝেমধ্যেই সীমানা পেরিয়ে ওড়িশার জঙ্গলে ঢুকে পড়ায় বনকর্মীদের পক্ষে তার স্থায়ী চিকিৎসা শুরু করা যাচ্ছিল না। অবশেষে শুক্রবার সকালে কেশররেখা রেঞ্জ অফিসের কাছে হাতিটিকে দেখতে পান বনদফতরের কর্মীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান নয়াগ্রামের পশু চিকিৎসক শুভেন্দু পোদ্দার। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, হাতিটির কাছাকাছি গিয়ে সরাসরি ইনজেকশন দেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে খাবারের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা হয়। কেশররেখা রেঞ্জের রেঞ্জার অনিশ মণ্ডল জানান, হাতিটির পায়ের সংক্রমণ খুব একটা গুরুতর নয়। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং বনকর্মীরা তার গতিবিধির ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখছেন। বনদফতর আশা করছে, দ্রুতই হাতিটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে।








