বেলপাহাড়ির ঘাঘরার জলে মর্মান্তিক পরিণতি: ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন মা, প্রাণে বাঁচল ৭ বছরের শিশু

বেলপাহাড়ির ঘাঘরা জলপ্রপাতে মর্মান্তিক ঘটনা। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে জলের স্রোতে তলিয়ে গেলেন মা, প্রাণে বাঁচল ৭ বছরের শিশু। ঝাড়গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩ অক্টোবর ২০২৬ : ছুটির দিনে প্রকৃতির কোলে ঘুরতে এসে মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল এক পর্যটক পরিবারের। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির বিখ্যাত ঘাঘরা জলপ্রপাতে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে জলের তীব্র স্রোতে ভেসে গেলেন মা। বাবা ছেলেকে বাঁচাতে পারলেও স্ত্রীকে হারালেন। শনিবার দুপুরে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বাসিন্দা রাজদীপ দত্ত, তাঁর স্ত্রী প্রীতি দত্ত এবং তাঁদের সাত বছরের ছেলে প্রিয়ঙ্কন দত্ত কলকাতা থেকে আসা প্রায় ৩৬ জনের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে বেলপাহাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। বেলা ১২টা নাগাদ দলটি ঘাঘরা জলপ্রপাতে পৌঁছায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জলপ্রপাতের পাশের পিচ্ছিল পাথরের উপর দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎই ছোট্ট প্রিয়ঙ্কনের পা পিছলে যায় এবং সে গভীর জলে পড়ে যায়। ছেলেকে জলে পড়তে দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি মা প্রীতি দত্ত। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্ত্রী ও সন্তানকে বিপদে পড়তে দেখে রাজদীপও ঝাঁপ দেন। রাজদীপ সাঁতার জানতেন। প্রাণপণ চেষ্টায় তিনি ছেলে প্রিয়ঙ্কনকে জলের স্রোত থেকে টেনে পাড়ে তুলে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু বর্ষার শেষে ঘাঘরার অত্যন্ত তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যান প্রীতি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর খোঁজ মেলেনি। ঘটনার পরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পর্যটকদের মধ্যে। খবর পেয়ে বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘাঘরা জলপ্রপাত অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং পর্যটকদের সতর্ক থাকতে সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও অনেকেই তা অমান্য করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা বেলপাহাড়ি জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।