ব্যুরো নিউজ, ৪ অক্টোবর ২০২৬: নদীয়ার রানাঘাটের বনেদি শর্মা বাড়ির দুর্গাপুজো “বুড়ো মা” নামেই পরিচিত। ৭৬৫ বছরের প্রাচীন এই পুজো রানাঘাটের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী উৎসব। ১২৬২ খ্রিস্টাব্দে রামকুমার চক্রবর্তী এই পুজোর সূচনা করেন। তিনি ছিলেন দেবী দুর্গার একনিষ্ঠ সেবক। কথিত আছে, রাঢ়বঙ্গ ভ্রমণ শেষে ব্রহ্মডাঙ্গা, অধুনা রানাঘাটে ফিরে এসে মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি পাঁচ বাড়ি ভিক্ষা করে এই পুজো শুরু করেন। সেই থেকে দেবী দুর্গা এখানে “বুড়ো মা” রূপে পূজিত হয়ে আসছেন। পরবর্তীকালে নদীয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় এই পুজোর ব্যাপ্তি ঘটে এবং এটি আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই পুজোর বিশেষত্ব এর প্রাচীন প্রথা ও রীতিনীতি।
প্রতি বছর উল্টোরথের দিন পাটে সিঁদুর দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। চতুর্থীতে পাটে ওঠেন “বুড়ো মা” এবং পঞ্চমীতে গহনা পরানোর পর ষষ্ঠী থেকে পুরোদমে পুজো শুরু হয়। প্রতিদিন নয় রকমের ভাজার সঙ্গে বিভিন্ন সুস্বাদু ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। দুর্গাপুজোর ক’দিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে এখানে, যা এক বিশাল জনস্রোতের সৃষ্টি করে। জাগ্রত দেবীর কাছে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হলে ভক্তরা ভক্তিভরে ধুনো জ্বালিয়ে মানত পূরণ করেন। অহংকার নিবৃত্তির জন্য নবমীর দিন অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী “কাদা খেলা”, যা এই পুজোর এক অনন্য আকর্ষণ। দশমীর দিন প্রান্ত ভোগ, কচুর শাক আর কলার বড়া খেয়ে “বুড়ো মা” এক বছরের জন্য বিদায় নেন, তবে লক্ষ লক্ষ ভক্তের মনে সারা বছর বিরাজ করেন। এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানা পৌরাণিক গল্প ও জনশ্রুতি, যা উৎসবের দিনগুলিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে এবং ভক্তদের আকর্ষণ করে।








