মহিলারাও কি পিতৃপুরুষের তর্পণ করতে পারেন? শাস্ত্র কী বলছে?

পিতৃপক্ষে মহিলারাও কি তর্পণ করতে পারেন? শাস্ত্র কী বলছে? জানুন হিন্দুধর্মের ব্যাখ্যা, কারা তর্পণ করতে পারেন এবং রামায়ণ-মহাভারতের উল্লেখ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ অক্টোবর ২০২৬: ২০২৬-এর পিতৃপক্ষের সূচনা হয়ে গেছে। এই পিতৃপক্ষ শেষ হবে মহালয়ার অমাবস্যাতে। এই সময় পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ ও শ্রাদ্ধ করার প্রথা প্রচলিত।

সাধারণত পুত্ররাই এই পবিত্র কাজটি করে থাকেন। তবে প্রশ্ন ওঠে, মহিলারাও কি পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে পারেন? শাস্ত্র এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়?

হিন্দুধর্মের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মহিলারাও তর্পণ, শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করার অধিকারী। অনেক শাস্ত্রকারই জানাচ্ছেন, মেয়েরা তর্পণ করতে পারবেন না, এমন কথা শাস্ত্রে কোথাও স্পষ্টভাবে লেখা নেই।

শাস্ত্র অনুযায়ী, পুত্র না থাকলে মৃত ব্যক্তির মেয়ে শ্রাদ্ধকর্মের অধিকারী হন। এছাড়াও পরিস্থিতি অনুযায়ী স্ত্রী, পুত্রবধূ, পৌত্র, প্রপৌত্র, ভাই, ভাইয়ের সন্তান অথবা দৌহিত্রও এই কর্ম সম্পন্ন করতে পারেন। মৃত ব্যক্তি অবিবাহিত হলে তাঁর মা বা বোনও শ্রাদ্ধ করতে পারেন।

রামায়ণে দশরথের মৃত্যুর পর রামের অনুপস্থিতিতে সীতার পিণ্ডদানের উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাভারতেও কৌরব রমণীদের তর্পণ করার বিশেষ উল্লেখ আছে।

প্রয়াত পিতৃপুরুষদের তৃপ্তি ও পিতৃঋণ থেকে মুক্তির জন্য তর্পণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালো তিল, ভাতের মণ্ড ও জল দিয়ে এই ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কাককে যমের দূত হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাদের খাবার দিলে প্রয়াত পূর্বপুরুষের আত্মা শান্তি পায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

এই প্রথা আত্মাকে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে এবং পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ লাভ হয়।