‘নবান্নে ডেকে কথা রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী’, রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত হুমায়ুন কবীরের

রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের। মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বললেন, "নবান্নে ডেকে কথা রাখেননি।" উপনির্বাচনে পুলিশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ অক্টোবর ২০২৬: রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন আটক হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত হাউ হাউ করে কেঁদে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, “নবান্নে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন যে আমার ছেলে ৩০ হাজার ভোটে জিতবে। কিন্তু গতকাল পুলিশ দিয়ে ভোট লুঠ করানো হয়েছে।” এই ঘটনার পর তাঁর চোখে জল, মন থেকে আর রাজনীতিতে থাকতে চাইছেন না বলে জানান হুমায়ুন।

নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বুধবার সরাসরি রাজনীতি থেকে অবসরের ইচ্ছাপ্রকাশ করে বলেন, তিনি আর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হতে চান না। তাঁর দাবি, এত মিথ্যাচার যে মুখ্যমন্ত্রী করেন, তাঁর মুখোমুখি তিনি হবেন না। বিধানসভায় যাবেন, অধিবেশনেও যাবেন, কিন্তু যে অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, সেদিন তিনি যাবেন না। বিধায়ক পদে থাকবেন কিনা, তা নিয়েও নওদার মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপনির্বাচনের পরের দিনই তিনি শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করে বলেন, “কথা রাখলেন না শুভেন্দু অধিকারী”। এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ হুমায়ুন কবীরের অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বাংলার মানুষের কাছে আবেদন করেন, “এই কুমীরের কান্নায় একটুও ভুল বুঝবেন না। কথায় কথায় এই লোকটা রাজনীতির তাস খেলে।”

ভোটের দিন সকালে বাড়ি থেকে বেরনোর আগেই পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছিলেন হুমায়ুন। বাবার ছেড়ে দেওয়া রেজিনগর আসনে প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ। শক্তিপুরে ভোট দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি, যা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়।

এই ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।