রতুয়ার মাড়োয়ারিপাড়ার ৩৩৩ বছরের দুর্গাপুজো: সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আজও উজ্জ্বল

মালদার রতুয়ার ৩৩৩ বছরের দুর্গাপুজো। মুসলমান জমিদার জুহুর খানের হাতে শুরু হওয়া এই পুজো আজও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে উজ্জ্বল।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ অক্টোবর ২০২৬:  মালদার রতুয়ার মাড়োয়ারিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো এবার ৩৩৩ বছরে পদার্পণ করল। এক মুসলমান জমিদার জুহুর খানের হাত ধরে স্বপ্নাদেশে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল আজ থেকে ৩৩৩ বছর আগে। সেই পুজো বর্তমানে রতুয়া বারোয়ারি দুর্গাপুজো নামেই পরিচিত। মালদার রতুয়ার মাড়োয়ারিপাড়ার কালিন্দ্রী নদীর ঘাটের কাছে জমিদার জুহুর খান এই পুজোর পত্তন করেছিলেন।

কথিত আছে, ইংরেজ আমলে এখানে জমিদারি পত্তন করেছিলেন জুহুর খান। স্বপ্নে নাকি দেবী তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মাড়োয়ারিপাড়ার কালিন্দ্রী নদীর ঘাটে ভেসে আসা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে দুর্গাপুজো শুরু করতে। দেবীর আদেশ মেনে তিনি পুজো শুরু করেন। কয়েক বছর পর তিনি পুজোর দায়িত্ব হিন্দু সম্প্রদায়ের হাতে তুলে দেন। আজও সেই প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। কালিন্দ্রীতে ভেসে আসা কাঠামোর উপরই প্রতিমা তৈরির প্রথা আজও বিদ্যমান, যা এই পুজোর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হলো সম্প্রীতির বার্তা। পুজোয় হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও সমানভাবে অংশ নেন, যা এই উৎসবকে এক ভিন্ন মাত্রা দেয়। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে বলিপ্রথা পালিত হয়, যেখানে মহানবমীতে ভক্তদের প্রায় ২০০ পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, নরনারায়ণ সেবা ও বিশাল মেলারও আয়োজন করা হয়। প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের সম্মিলিত সহযোগিতায় এই ঐতিহাসিক দুর্গোৎসব আজও তার ঐতিহ্য, প্রাচীন রীতিনীতি এবং সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। এই পুজো শুধু একটি উৎসব নয়, এটি মালদার এক জীবন্ত ইতিহাস।