ব্যুরো নিউজ, ৮ অক্টোবর ২০২৬: কলকাতার বাইরে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অঞ্চলে থিয়েটার এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, হয়ে উঠেছে সামাজিক পরিবর্তন ও জীবিকার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের দুটি নাট্যদল তাদের অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কৃতি, কৃষি ও সমাজসেবাকে এক সুতোয় গেঁথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বীরভূমের লাভপুরে ‘বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী’ তেরো বিঘা জমির উপর গড়ে তুলেছে এক ব্যতিক্রমী নাট্য আশ্রম। এখানে নাট্যচর্চার পাশাপাশি চলে চাষাবাদ, সামাজিক কাজকর্ম ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম।
দলের কর্ণধার উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় জানান, ১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া এই দল করোনা অতিমারীর সময় দুঃস্থদের খাবার পৌঁছে দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। শিল্পীদের জীবিকা নির্বাহের জন্য চাষাবাদ শুরু হয়, যা তাদের আশ্রমিক ভাবনারই অংশ।
অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের সাতকাহনিয়া গ্রামে ‘এবং আমরা’ নাট্যদল চার একর জমিতে তৈরি করেছে ‘তেপান্তর নাট্য গ্ৰাম’। ১৯৯৪ সালে দিনমজুর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শুরু হওয়া এই দলটির পরিচালক কল্লোল ভট্টাচার্য জানান, নাট্যকর্মীদের উপার্জনের সমস্যা মেটাতে তারা সব্জি চাষ, ফলের বাগান, হাঁস-মুরগির খামার ও মাছ চাষ শুরু করেন। উপার্জিত অর্থের একাংশ শিল্পীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, বাকিটা দলের কাজে ব্যবহৃত হয়। এখন তেপান্তর নাট্য গ্ৰামে মুক্ত মঞ্চ, ব্ল্যাক বক্স থিয়েটার ও থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে।
এই দুই দলের উদ্যোগ প্রমাণ করে, থিয়েটার কেবল মঞ্চের শিল্প নয়, এটি মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা এক বৃহত্তর জীবনচর্চা, যা গ্রামীণ জীবনে নতুন আশা জাগাচ্ছে।







