ব্যুরো নিউজ, ১০ অক্টোবর ২০২৬: ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একদিকে যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভারত ও চিনের মতো দেশগুলিকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিচ্ছে এবং এই সংক্রান্ত একটি আইনও এনেছে, ঠিক তখনই এই চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে ইউক্রেনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন যে, আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়া ৩ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পাশাপাশি, নভেম্বরে আরও ৫ লক্ষ মেট্রিক টন এবং পরবর্তীতে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মস্কো।
এই চুক্তি এমন এক সময়ে হল, যখন আগামী নভেম্বরে আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগে বিশ্ববাজারে তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি রিপাবলিকানদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ট্রাম্প তড়িঘড়ি রাশিয়ার সঙ্গে এই তেলচুক্তি করেছেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে আমেরিকা রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু এই চুক্তি সেই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হচ্ছে, কারণ এটি একদিকে যেমন ইউক্রেনকে দুর্বল করছে, তেমনই রাশিয়ার অর্থনীতিকে পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করছে।
জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে দেশগুলি রাশিয়ার তেল কিনছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও, খোদ আমেরিকার এমন পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য। ইউক্রেন মনে করছে, এই চুক্তি যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার উপর চাপ কমানোর একটি সুযোগ করে দেবে।








