নবান্নর কাছে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, তার ও পেরেক ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

নবান্নর কাছে শরৎ চ্যাটার্জি রোডে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার। পাশে তার ও পেরেক। খুনের অনুমান পুলিশের, তদন্ত শুরু।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১২ অক্টোবর ২০২৬:  নবান্নর অদূরে শরৎ চ্যাটার্জি রোডের ছোট ভট্টাচার্য পাড়া এলাকায় এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম অঞ্জন চক্রবর্তী ওরফে ছোটকা, বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। রবিবার দুপুরে একটি সরু গলির ভিতর দোতলা বাড়ির বন্ধ দরজার সামনে থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ। দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে কেবিলের তার ও কিছু পেরেক, যা দেখে প্রাথমিকভাবে খুন বলেই অনুমান করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় খুনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। অঞ্জন চক্রবর্তী সেরকমভাবে কোনো কাজ করতেন না এবং প্রচুর নেশা করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও তিনি ভালো ইলেকট্রিকের কাজ জানতেন এবং ছোটখাটো কাজ করে নিজের পেট চালাতেন। একসময় তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে পাশেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি একাই থাকতেন এবং রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াতেন। মৃতের বন্ধু সৈকত পাল জানান, ছোটকারা তিন ভাই, তাঁদের ব্যতাইতলা বাজারে একটি ফটোর দোকান রয়েছে। ছোটকা ভাইদের মধ্যে ছোট ছিল এবং নবান্নর আশেপাশে ব্রিজের ধারেই খাওয়া-দাওয়া করে শুয়ে থাকত। তাঁর মৃত্যু কীভাবে হল, তা নিয়ে তাঁরাও ধোঁয়াশায়। তবে স্থানীয় অন্যান্য বাসিন্দাদের দাবি, নেশাগ্রস্ত হওয়ায় ছোটকাকে প্রায়শই এলাকার লোক মারধর করত। শনিবার রাতেও এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁদের অনুমান। পুলিশ তার ও পেরেক দিয়ে তাঁকে মারা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।