”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক, ছুরি নিয়ে হামলার অভিযোগ খারিজ কলকাতা পুলিশের”

Share:

ব্যুরো নিউজ ১৫ অক্টোবর:

কলকাতা, ১৫ অক্টোবর:

কলকাতার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের কাছে এক মহিলাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গোষ্ঠী।

এই ঘটনায় কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। তবে বুধবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানান, হামলার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ওই মহিলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু উপস্থিত সমর্থকদের কাছে ঘটনাটি অন্যরকম মনে হয়েছিল।

ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ছ’টা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাছাকাছি মিলন সংঘের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় এক মহিলা তাঁর কাছে এগিয়ে আসেন। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের অভিযোগ, ওই মহিলা আক্রমণাত্মক আচরণ করেন, গালিগালাজ করেন এবং তাঁর হাতে ছুরি ছিল।

তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয় বলেও দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

দোলা সেনের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো জেড-প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে কীভাবে একজন মহিলা এইভাবে পৌঁছে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি পুলিশকে ঘটনার ছবি ও ভিডিয়ো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করার আবেদন জানান।

অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই মহিলার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বচসা হয়েছিল। পুলিশকর্মীরা তাঁকে আটক করেন এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পুলিশ কমিশনারের দাবি, ওই মহিলা এবং তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিত।

ফলে ঘটনাটিকে সরাসরি হামলা বলে বর্ণনা করার ভিত্তি নেই বলে তিনি জানান।

ঘটনায় অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। তবে ছুরি নিয়ে হামলার অভিযোগ এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য ও তৃণমূলের অভিযোগের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।