পুরুলিয়ার দেউলঘাটার ১২০০ বছরের প্রাচীন পুজো! কালো মায়ের অত্যন্ত প্রিয় পোস্তবড়া

পুরুলিয়ার দেউলঘাটার ১২০০ বছরের প্রাচীন দুর্গাপূজা ও কালো মায়ের বিশেষ ভোগ পোস্ত বড়া। জানুন এই ঐতিহাসিক পুজোর ঐতিহ্য ও জৈন প্রভাবের কথা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: পুরুলিয়ার আড়শার দেউলঘাটার ১২০০ বছরের প্রাচীন দুর্গাপূজা তার ঐতিহ্য এবং বিশেষ ভোগ নিবেদনের জন্য সুপরিচিত। কাঁসাই নদীর তিরতিরে স্রোত আর ঘন জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত এই কালো মায়ের মন্দিরটি প্রকৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য মেলবন্ধন।

এখানকার দশভুজা দুর্গা মূর্তিটি কালো কুচকুচে প্রস্তরের তৈরি, যা লোকসংস্কৃতি গবেষকদের মতে ভারতের অন্যতম প্রাচীন এবং নবম শতাব্দীর শিল্পশৈলীর এক বিরল নিদর্শন। জয়পুরের তুনতা গ্রামের রাজপুত পরিবার প্রায় ১২০০ বছর ধরে এই পুজোর সঙ্গে জড়িত। তাঁদের পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, পাল বংশের রাজত্বকালে এই অঞ্চলে জৈনদের প্রভাব ছিল, এবং এই কালো দুর্গা মূর্তিটি সেই সময়কারই। এটি পুরুলিয়ার জৈন আধিপত্যের এক জীবন্ত প্রমাণ।

এই পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো দেবীর প্রিয় পোস্তবড়া। সপ্তমী, অষ্টমী বা নবমীর ভোগ, যেখানে অন্ন, লুচি, পায়েস বা খিঁচুড়ি যাই থাকুক না কেন, পোস্তবড়া অপরিহার্য। এমনকি সপ্তমীর অন্নভোগেও আলুপোস্ত থাকে। পুজো কমিটির সদস্যরা এবং স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, কালো মা পোস্ত অত্যন্ত ভালোবাসেন, তাই এটি ছাড়া ভোগ অসম্পূর্ণ।

দেউলঘাটার রেখ শিল্পশৈলীতে তৈরি প্রাচীন দেউলগুলিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। অতীতে দুটি পাথরের দেউল থাকলেও বর্তমানে দুটি ইটের দেউলের সংস্কার করছে রাজ্য সরকার। পরিকাঠামোর অভাব সত্ত্বেও দেউলঘাটা পুরুলিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে, যার মূল কারণ এই ঐতিহাসিক কালো মায়ের পুজো এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনন্য সংস্কৃতি। এই পুজো দেখতে প্রতি বছর দূর-দূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী ভিড় করেন।