ব্যুরো নিউজ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: মেগাস্টার রজনীকান্তের ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাস বরাবরই সাধারণ মানুষের কৌতূহল বাড়িয়েছে। সম্প্রতি তাঁর অনস্ক্রিন সহকর্মীদের মাধ্যমে সামনে এসেছে এক বিশেষ ডায়েট নিয়ম, ৪০ বছর পেরোলে খাদ্যতালিকা থেকে ‘সাদা খাবার’ সম্পূর্ণ বর্জন করা। এই তালিকায় রয়েছে চালের ভাত, দুধ, দই, চিনি ও নুন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতে, এই পরামর্শ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্বেতসার বা কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে সাদা চালের ভাতকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত সব্জি ও প্রোটিনের সঙ্গে ভাত খেলে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না। তবে খোসাযুক্ত লাল চাল বা ব্রাউন রাইস ফাইবার বাড়াতে সাহায্য করে, যা ৪০-এর পর আরও উপকারী। দুধ ও দই ক্যালশিয়াম ও প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিশেষ করে দই একটি কার্যকরী প্রোবায়োটিক, যা পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ল্যাকটোজ় ইনটলারেন্স না থাকলে পরিমিত পরিমাণে দুধ বা দই খাওয়া উপকারী।
রজনীকান্তের ‘সাদা খাবার’ তালিকার যে উপাদানটির সঙ্গে চিকিৎসকরা পুরোপুরি একমত, তা হলো অতিরিক্ত চিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অতিরিক্ত প্রসেসড চিনি বর্জনের পরামর্শ দেয়, কারণ এটি স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবিটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। নুন শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও, অতিরিক্ত নুন উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। WHO প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ৫ গ্রামের কম নুন খাওয়ার পরামর্শ দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়লে শরীরের বিপাকহার ধীর হয়ে যায়, তাই খাবারে রাশ টানা প্রয়োজন। তবে কোনও নির্দিষ্ট রোগ না থাকলে দুধ, দই বা ভাত পুরো বাদ দেওয়ার চেয়ে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করাই দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি, তাই বর্জন নয়, প্রয়োজন হল ভারসাম্যের।







