ব্যুরো নিউজ, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তারাগুনিয়ার পশ্চিমপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপুজো এবার শতবর্ষে পা দিল।
ইছামতির পারে বুড়িমা হেমলানি মুখার্জির দান করা জমিতে শুরু হওয়া এই পুজো আজও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য পীঠস্থান। একসময় টালির চাল আর মাটির দেওয়ালে বুড়িমা কয়েকজনকে নিয়ে যে পুজোর সূচনা করেছিলেন, আজ তা কংক্রিটের ঠাকুরদালানে পরিণত হয়েছে এলাকার কয়েকশো মানুষের নিজস্ব অর্থায়নে। এই শতবর্ষীয় উৎসবে জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।
উদ্যোক্তা মৃত্যুঞ্জয় ঘোষ, সুমন ভট্টাচার্য, সম্প্রীতি সরকাররা জানান, পুজোর কটা দিন হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এই ঠাকুরদালানে নিরামিষ খাবারের মধ্যে দিয়ে উৎসবে সামিল হন। একদিকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে পুজোর সূচনা হয়, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম নাচ, গান, আবৃত্তি ও থিয়েটারের মধ্য দিয়ে মুক্তমঞ্চে তাদের কলাকুশলতা প্রদর্শন করে। ইছামতী নদীতে বিয়ার ও কাঁধে চড়ে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
পাশাপাশি, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আটুরিয়াতেও প্রায় ১০০ বছরের প্রাচীন সার্বজনীন পুজো কমিটি একইরকম সম্প্রীতির বার্তা বহন করছে। উদ্যোক্তা সুজিত কুমার রায়, পরিতোষ মন্ডল, মনোতোষ রায়রা বলেন, এখানেও সব সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে আনন্দ ও বিনোদনের মধ্য দিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। প্রাচীন সংস্কৃতি ও নতুন প্রজন্মের উদ্যম, দুইয়ের মেলবন্ধনে এই পুজো আজও তার ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছে, যা সত্যিই এক প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।







