নদীর জল দূষণ রোধে তৎপর প্রশাসন: ইছামতী সহ একাধিক নদীতে দ্রুত কাঠামো তোলার নির্দেশ

নদীর জল দূষণ রোধে বসিরহাট সহ একাধিক অঞ্চলে প্রতিমার কাঠামো দ্রুত তোলার নির্দেশ দিল প্রশাসন। ইছামতী, বিদ্যাধরী সহ বিভিন্ন নদীতে চলছে কাজ, মৎস্যকুল ও পরিবেশ রক্ষায় তৎপরতা।

Share:

ব্যুরো নিউজ ২২ অক্টোবর ২০২৬:

বসিরহাট, ৪ নভেম্বর: প্রতিমা বিসর্জনের পর নদীর জলদূষণ রুখতে তৎপর হল প্রশাসন। প্রতিমার রাসায়নিক রং ও বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল নদীর জলে মিশে জলজ প্রাণী এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ক্ষতি করতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই বিসর্জনের পর দ্রুত প্রতিমার কাঠামো তুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বসিরহাট মহকুমার ইছামতী, রায়মঙ্গল, কালিন্দী, বিদ্যাধরী-সহ একাধিক নদীর ঘাটে শুরু হয়েছে কাঠামো অপসারণের কাজ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজো শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। কিন্তু বিসর্জনের পর প্রতিমার কাঠামো দীর্ঘক্ষণ জলে পড়ে থাকলে তাতে ব্যবহৃত রাসায়নিক রং ও অন্যান্য উপাদান নদীর জলে মিশে দূষণ ছড়াতে পারে। এর ফলে নদীর জীববৈচিত্র্য, বিশেষত মাছ-সহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত কাঠামো সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই কাজে নেমেছে বসিরহাট ও টাকি পৌরসভা। পৌরকর্মীদের সহযোগিতায় সকাল থেকেই বিভিন্ন বিসর্জন ঘাটে চলছে কাঠামো তোলার কাজ। বসিরহাট শ্মশান ঘাট, বোর্ড ঘাট, ইছামতী নদীর বিভিন্ন ঘাট, হিঙ্গলগঞ্জের বাজার ঘাট, হাড়োয়ার নাসির আলীর ঘাট এবং হাসনাবাদ থানার বিদ্যাধরী ঘাট-সহ সুন্দরবন ও সীমান্তবর্তী এলাকার একাধিক স্থানে এই অভিযান চলছে।

প্রশাসনের তরফে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিমার কাঠামো থেকে নির্গত রাসায়নিক উপাদান নদীর জলে মিশে পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে।

প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নদী ও প্রকৃতির সুরক্ষার দিকেও নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো প্রতিমার কাঠামো সরিয়ে ফেলার এই উদ্যোগ নদীর জলদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।