ব্যুরো নিউজ, ২৩ অক্টোবর ২০২৬: হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন দেবদেবীর জন্য নির্দিষ্ট বাহন রয়েছে, যা কেবল পরিবহণের মাধ্যম নয়, বরং গভীর আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক অর্থ বহন করে।
শাস্ত্র অনুযায়ী, এই বাহনগুলি দেবদেবীর বিশেষ শক্তি ও গুণের প্রতীক। মা লক্ষ্মীর বাহন হিসাবে প্যাঁচার নির্বাচনও এমন এক গভীর তাৎপর্যের অধিকারী, যা বহু যুগ ধরে ভক্তদের মনে কৌতূহল জাগিয়ে তুলেছে।
পুরাণ মতে, সৃষ্টির আদিতে মা লক্ষ্মী মর্ত্যে নেমে এসেছিলেন তাঁর বাহন নির্বাচনের জন্য। সেই সময় তিনি একটি শর্ত আরোপ করেন, কার্তিক অমাবস্যার ঘোর অন্ধকারে যে প্রাণী সবার আগে তাঁর সামনে উপস্থিত হবে, তাকেই তিনি তাঁর বাহন রূপে গ্রহণ করবেন। যখন অন্য প্রাণীরা গভীর অন্ধকারে দিশাহারা হয়ে থমকে গিয়েছিল, তখন একমাত্র প্যাঁচাই তার প্রখর দৃষ্টিশক্তির সাহায্যে দেবীর সামনে হাজির হতে সক্ষম হয়। দেবী তখন তাকেই তাঁর বাহন রূপে আপন করে নেন।
এছাড়াও, সমুদ্রমন্থনের পৌরাণিক কাহিনিতেও মা লক্ষ্মীর সঙ্গে প্যাঁচার নাম উঠে আসে, যা এই নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। শাস্ত্র বিশারদরা মনে করেন, প্যাঁচাকে বাহন হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বিশেষ দার্শনিক কারণ। প্যাঁচা দিনের আলোতে দেখতে পায় না, কিন্তু রাতের অন্ধকারে তার দৃষ্টি অত্যন্ত প্রখর। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ধনসম্পদ বা ঐশ্বর্য অনেক সময় মানুষকে পার্থিব মোহে অন্ধ করে দেয়, যার ফলে তারা সঠিক বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থাকলে অন্ধকার পরিস্থিতিতেও সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
লক্ষ্মীদেবী যেহেতু সম্পদের দেবী, আর প্যাঁচা সেই সম্পদের সঠিক ব্যবহার, দূরদর্শিতা এবং জ্ঞানের প্রতীক। এই গভীর তাৎপর্যই লক্ষ্মীপুজোয় প্যাঁচাকে দেবীর বাহন হিসাবে পূজিত হওয়ার মূল কারণ, যা মানুষকে সম্পদ ও জ্ঞান উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিতে শেখায়।








