ঋতব্রতদের হলফনামা ছিনতাইয়ের চেষ্টা দিল্লিতে, কালীঘাটের দিকে আঙুল বিক্ষুব্ধদের; পাল্টা কটাক্ষ দোলা সেনের

দিল্লির পথে ঋতব্রতদের হলফনামা ছিনতাইয়ের চেষ্টা, কালীঘাটের দিকে অভিযোগের আঙুল বিক্ষুব্ধদের। পাল্টা কটাক্ষ দোলা সেনের।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: দিল্লির পথে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের হলফনামা ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। সোমবার ভোরে হরিয়ানা সীমান্তের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগের তির সরাসরি কালীঘাট শিবিরের দিকে। নির্বাচন কমিশনে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণ করার জন্য দুই শিবিরই হলফনামা জমা দিচ্ছে। ঋতব্রত জানিয়েছেন, আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় তাঁদের হলফনামা সড়কপথে দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছিল, যেখানে কালীঘাট শিবির চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের নথি পাঠিয়েছে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে জানান, ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ তাঁদের ট্রাকে হামলা চালানো হয় এবং নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁদের কর্মীরা বাধা দেওয়ায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে ‘চার্টার্ড সংস্কৃতি এবং তৃণমূল স্তরের সংকল্পের মধ্যে লড়াই’ বলে অভিহিত করেছেন, যা স্বৈরাচারীদের সুসংগঠিত লুটপাটের চেষ্টা বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন মমতাপন্থী সাংসদ দোলা সেন। তাঁর কথায়, “নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকাই হয়। সাধারণত মিথ্যে শুনলে আমার খুব রাগ হয়। কিন্তু এটা শুনে হাসি পাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, সত্য, ন্যায় আর মানুষই শেষ কথা বলবে। যাদের ২১ জুলাইয়ের জমায়েত থেকে শুরু করে সর্বত্র নিজেদের সদস্য সংখ্যার প্রমাণ জোগাড় করতে পুলিশ-প্রশাসনের মুখাপেক্ষী হতে হয়, তাদের মানুষই শিক্ষা দেবে। উল্লেখ্য, এর আগে কালীঘাট শিবির ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে হলফনামা সংগ্রহে অবৈধ উপায় অবলম্বনের অভিযোগ তুলেছিল। মমতাদের দাবি, ঋতব্রতদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে পুলিশ। স্ট্যাম্প পেপারে জোর করে সই করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও বিজেপি ও পুলিশের যোগসাজশে হলফনামা সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে হলফনামা ছিনতাইয়ের অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল।