ব্যুরো নিউজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা লস্যি বা ভাতের শেষে এক বাটি দই বাঙালির দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এক অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু বাড়িতে পাতা দই ফ্রিজে কতদিন পর্যন্ত তাজা ও স্বাস্থ্যকর থাকে, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। এই বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকলে পেটের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, যা হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের ঠান্ডা তাপমাত্রায় দইয়ের মধ্যে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কিছুটা কমে গেলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয় না।
বরং, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যাকটেরিয়াগুলি দইকে আরও টক করে তোলে এবং তার পুষ্টিগুণ ও আসল স্বাদ নষ্ট হতে শুরু করে। ফলে, বেশিদিন ফ্রিজে রাখা দই খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঘরে পাতা দইয়ের ক্ষেত্রে, দুধ জমিয়ে দই পাতার পর তা যদি সঙ্গে সঙ্গে ঠিকঠাক ঢাকা দিয়ে ফ্রিজে রাখা হয়, তবে তা বড়জোর দিনকয়েক ভালো থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হলো, দই পাতার পর যত দ্রুত সম্ভব তা খেয়ে ফেলা। কারণ, তাজা দইয়ের স্বাদ, গন্ধ এবং স্বাস্থ্যগুণই অনন্য, যা দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণে কমে যায়। দোকানের কেনা প্যাকেটবন্দি দইয়ের ক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘ইউজ বাই’ বা ‘বেস্ট বিফোর’ তারিখ এবং সংরক্ষণের নিয়মাবলী খুঁটিয়ে দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে প্যাকেট একবার খোলার পর ওই দইয়ের মেয়াদ অনেকটাই কমে যায়। কারণ, খোলা অবস্থায় দই দ্রুত বাইরের ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে।
তাই খোলার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা শেষ করে ফেলাই উচিত। ফ্রিজে মাসের পর মাস দই জমিয়ে রেখে স্বাস্থ্যঝুঁকি না নিয়ে, এই সহজ নিয়মগুলি মেনে চললে দইয়ের টকভাব যেমন এড়ানো যাবে, তেমনই পেটও থাকবে সুস্থ ও নিরাপদ। নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দই সংরক্ষণের এই ছোট ছোট বিষয়গুলি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।








