ব্যুরো নিউজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: মঙ্গলবার ইজরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যা ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রথম জাতীয় ভোট। এই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব, নিরাপত্তা রেকর্ড এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক বড় পরীক্ষা।
ভোটাররা ৭ই অক্টোবরের হামলার মোকাবিলা এবং পরবর্তী সংঘাত পরিচালনার বিষয়ে তাঁর ভূমিকাকে বিচার করবেন। পাশাপাশি সামরিক পরিষেবা থেকে অতি রক্ষণশীল ইহুদিদের অব্যাহতি, বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহু তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির কাছ থেকে অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রাক্তন সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট, যিনি হামাসের হামলায় তাঁর পুত্রকে হারিয়েছেন, তিনি সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদ ‘টুগেদার’ নামে একটি নতুন দল গঠন করে জাতীয় ঐক্যের উপর জোর দিচ্ছেন এবং নেতানিয়াহু বিরোধী জোট গড়ার চেষ্টা করছেন।
১২০ জন সদস্যের নেসেটে কোনো একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য জোট আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।
নেতানিয়াহু অতি রক্ষণশীল দলগুলির উপর নির্ভরশীল, যাদের সামরিক পরিষেবা ছাড়ের দাবি এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। দেশের নিরাপত্তা সংকট এবং রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে এই নির্বাচন ইজরায়েলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ক্ষমতার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে।
এই ভোট কেবল নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং ইজরায়েলের আগামী দিনের নীতি ও দিকনির্দেশনাও স্থির করবে।








