গুটখার পিক ফেলতে গিয়েই মর্মান্তিক পরিণতি

Share:

ব্যুরো নিউজ,২৬অক্টোবর ২০২৬:     সামান্য অসতর্কতা, নাকি বিদ্যুৎ দফতরের গাফিলতি? বাড়ির তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে গুটখার পিক ফেলতে গিয়ে ১১ কেভি হাইটেনশন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে মৃত্যু হল ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার গঞ্জবাসোদার গায়ত্রী নগরে। মৃতের নাম প্রভুলাল গুপ্ত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ গঞ্জবাসোদার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের বাড়ির তৃতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন প্রভুলাল। সেই সময় গুটখার পিক ফেলতে গিয়ে বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া ১১ কেভি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসেন তিনি। বিদ্যুতের তীব্র ঝটকায় গুরুতরভাবে ঝলসে যান ওই বৃদ্ধ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। বিদ্যুতের অভিঘাতে বারান্দার রেলিংয়ে ঝুলে থাকে তাঁর দেহ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঞ্জবাসোদা শহর থানার পুলিশ এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা। পরে বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা সংশ্লিষ্ট লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

জানা গিয়েছে, প্রভুলাল গত ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তাঁর আদি বাড়ি ছতরপুরে। দুর্ঘটনার পর বাড়ির মালিক পদমা চিঢ়ার অভিযোগ করেন, বিপজ্জনক বিদ্যুতের তার সরানোর জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জানানো হয়েছিল। তার সরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।

স্থানীয় কাউন্সিলর মনীশ বিশ্বকর্মারও অভিযোগ, এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, তার এবং ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারের রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। একাধিক বাড়ির পাশ দিয়ে বিপজ্জনকভাবে ১১ কেভি বিদ্যুতের তার চলে গিয়েছে। এমনকি, নির্মীয়মাণ একটি বাড়ির ছাদের খুব কাছ দিয়েও তার যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

এই মৃত্যুর পর বিপজ্জনক বিদ্যুতের তার দ্রুত সরানো এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।