দাবার জগতে অন্ধকার ছবি: দাবা সংস্থার সমীক্ষায় প্রতি ৪ জনে ৩ জন মহিলা হেনস্থার শিকার

FIDE-র সমীক্ষায় দাবার জগতে মহিলাদের প্রতি বৈষম্য ও হেনস্থার চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতি ৪ জনে ৩ জন মহিলা শিকার, ৪৪% দাবা ছাড়ার কথা ভেবেছেন। বিস্তারিত জানুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থা FIDE-র এক চাঞ্চল্যকর সমীক্ষায় দাবার জগতে মহিলাদের প্রতি বৈষম্য ও হেনস্থার এক অন্ধকার দিক উঠে এসেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, দাবার সঙ্গে যুক্ত প্রতি চার জন মহিলা ও কিশোরীর মধ্যে তিন জনই কোনও না কোনও ধরনের বৈষম্য বা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এই পরিসংখ্যানে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৪৪ শতাংশ মহিলা দাবা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছেন। FIDE-র প্রথম বিশ্বব্যাপী এই সমীক্ষায় ১২৭টি দেশের মোট ৬৭২ জন অংশ নেন, যার মধ্যে ভারতের উত্তরদাতা ছিলেন সর্বাধিক ৬৯ জন।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ মহিলা লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এছাড়াও, ৩৮ শতাংশ মহিলা যৌন হেনস্থা বা অনুপযুক্ত আচরণের শিকার হয়েছেন এবং একই সংখ্যক মহিলা অনলাইনে অপমান ও হয়রানির কথা জানিয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক ও খেতাবধারী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা আরও বেশি উদ্বেগজনক; তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি লিঙ্গবৈষম্যের শিকার এবং ৫৫ শতাংশ যৌন হেনস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। ১৮ বছরের কম বয়সীদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হেনস্থার হার অনেক বেশি। ২০২৬ সালের ৩রা অগস্ট থেকে ১৪ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালানো এই সমীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে FIDE-র মহিলা দাবা কমিশন।

কমিশনের চেয়ারপার্সন ট্রিস অ্যান রিচার্ডস জানিয়েছেন, এই পরিসংখ্যান শুধু কিছু সংখ্যা নয়, বরং দাবার সঙ্গে যুক্ত বাস্তব মহিলাদের জীবনের অভিজ্ঞতা। তিনি আরও বলেন, দাবার ভাবমূর্তি খারাপ করা এই সমীক্ষার উদ্দেশ্য নয়, বরং সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, লিঙ্গবৈষম্যের শিকার মহিলাদের দাবা ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় তিন গুণ বেশি।

আর্থিক সমস্যা, প্রশিক্ষক ও প্রতিযোগিতার খরচ, এবং মহিলা আদর্শের অভাবকেও বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অঞ্চলভেদে বৈষম্যের ছবিতে পার্থক্য দেখা গেলেও, FIDE এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে, যাতে কোনও মহিলাকে বৈষম্য বা হেনস্থা সহ্য করতে না হয়।