ব্যুরো নিউজ, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে এক মাসের মধ্যে দুই বিচারাধীন বন্দীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এবার ভুয়ো চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা করার অভিযোগে ধৃত বারুইপুরের বেতবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী বাসুদেব নস্কর নামের এক বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের স্ত্রী সোনালী নস্কর তাঁর স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো চিকিৎসক হওয়ার অভিযোগে ধৃত বাসুদেব নস্করকে জেল হেফাজতেই রাখা হয়েছিল। সোমবার সোনালী নস্কর স্বামীর অসুস্থতার খবর পেয়ে প্রথমে জেলে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর স্বামী সেখানে নেই। এরপর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছে তিনি দেখেন, তাঁর স্বামী বেডের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে ফের হাসপাতালে এসে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। সোনালীদেবীর অভিযোগ, স্বামীর হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর ঘটনা, কোন বিষয়েই পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তিনি মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দাবি করেছেন যে, তাঁকে খুন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ই অক্টোবর এই একই বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের বাথরুম থেকে বিচারাধীন বন্দী আজহারুল লস্করের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক বিচারাধীন বন্দীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, বন্দীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরদারির ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বাসুদেব নস্করের মৃত্যুর কারণ ও পরিবারের খুনের অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে; রিপোর্ট হাতে এলেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।








