ব্যুরো নিউজ, ৪ নভেম্বর ২০২৬: গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য প্রশাসন। আগামী ২০২৭ সালের মেলায় দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে এবারের মেলায় বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে একটি বিষয়ে—ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান। সাধারণ পুণ্যার্থী থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি, সকলের জন্য একই ধরনের পরিষেবা নিশ্চিত করতে চায় প্রশাসন। কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রেও যাতে কোনও ভিড় বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, পুণ্যার্থীরা রাজ্যে প্রবেশ করার পর থেকে পুণ্যস্নান সেরে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত তাঁদের জন্য সমন্বিত পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মেলার পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা, খাওয়া, পানীয় জল এবং নিরাপত্তার মতো প্রতিটি বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বৈঠক হয়েছে।
ভিআইপি-দের জন্য থাকবে না আলাদা ব্যবস্থা
এবারের গঙ্গাসাগর মেলায় ভিআইপি-দের জন্য বিশেষ কোনও ব্যবস্থা রাখতে চায় না প্রশাসন। সাধারণ পুণ্যার্থী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে একই ধরনের পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দেওয়ার সময় যাতে কেউ আলাদা সুবিধা না পান এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর জন্য অস্থায়ী তাঁবু ও পরিষেবা
প্রশাসনের অনুমান, গতবারের তুলনায় এবার গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সেই কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে কয়েক লক্ষ অস্থায়ী তাঁবু। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে গড়ে তোলা হবে অস্থায়ী শিবির। পাশাপাশি পানীয় জল, স্নানের ব্যবস্থা, ভাণ্ডারা এবং বিশ্রামের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পুণ্যস্নানের জন্য বাড়ানো হবে ঘাটের সংখ্যাও।
জলপথে যাতায়াতের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ভেসেল চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত যাতে নির্বিঘ্ন হয়, তার জন্য পরিবহণ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।
নিরাপত্তায় AI, CCTV ও হেলিকপ্টার নজরদারি
বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট এবং মেলা প্রাঙ্গণে সিসিটিভি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে।
পুণ্যার্থীদের সাহায্যের জন্য থাকবে অনুসন্ধান কেন্দ্র, সচিত্র পরিচয়পত্র এবং প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক। কোনও সমস্যা হলে যাতে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি আকাশপথ ও জলপথে নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যৌথ নজরদারির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রশাসনিক বৈঠকে জোর প্রস্তুতিতে
গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। বুধবার ফের প্রশাসনিক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতা থেকে আধিকারিকদের কাকদ্বীপ যাওয়ার কথা। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে যাতায়াতের পথ—প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
প্রতিবছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগরে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। বিপুল ভিড়ের কারণে পরিবহণ, নদী পারাপার, থাকা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। এবার আগাম পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সেই সমস্যাগুলি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভিআইপি ও সাধারণের মধ্যে পরিষেবার বিভাজন দূর করে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এবারের আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।








