ব্যুরো নিউজ, ৪ নভেম্বর ২০২৬: অগ্নিপথ প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা কেন্দ্রের। এবার থেকে অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ চার বছরের পরিবর্তে ছয় বছর হতে চলেছে। অর্থাৎ, প্রাথমিক চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও দু’বছর সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাবেন অগ্নিবীরদের একটি বড় অংশ। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমণি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক চার বছর শেষে নিয়মিত সেনাকর্মী হিসেবে নির্বাচিত না হওয়া ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে আরও দু’বছরের জন্য কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। ফলে তাঁদের মোট চাকরির মেয়াদ দাঁড়াবে ছয় বছর। এই অতিরিক্ত সময়ের শেষে নির্ধারিত যোগ্যতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া পূরণ করতে পারলে নিয়মিত সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগও থাকবে। তবে এই সুযোগকে স্থায়ী নিয়োগের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।
কাদের জন্য বাড়ছে চাকরির মেয়াদ?
অগ্নিপথ প্রকল্পের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, চার বছরের প্রশিক্ষণ ও কর্মপর্ব শেষে প্রতি ব্যাচের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা এবং বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেনাকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা যায়। বাকি ৭৫ শতাংশের চার বছরের মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের বাহিনী ছাড়ার কথা ছিল।
নতুন সিদ্ধান্তে সেই ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরের জন্য আরও দু’বছর কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ, যাঁরা প্রথম পর্যায়ে স্থায়ী নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হবেন না, তাঁদেরও অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে। অতিরিক্ত দু’বছরের পর নিয়মিত বাহিনীতে যোগদানের জন্য নতুন করে নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচিত হতে হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন
অগ্নিবীরদের নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষার আগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চার বা ছয় বছরের চাকরির সময় অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে অগ্নিবীরদের স্কিল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর বাইরে ভবিষ্যতে অন্য কর্মক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ পেতেও এই শংসাপত্র সহায়ক হতে পারে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
২০২২ সালের জুন মাসে অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করেছিল কেন্দ্র। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনায় চার বছরের জন্য তরুণদের নিয়োগ করা হয়। বাহিনীকে আরও তরুণ ও আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল।
তবে প্রথম ব্যাচের চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় যত এগিয়ে আসছিল, ততই অভিজ্ঞ অগ্নিবীরদের ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল। প্রথম ব্যাচে তিন বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ২৪,৪০০ জন নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৮,৩০০ জনের ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
নৌসেনার প্রথম ব্যাচের মেয়াদ ২১ নভেম্বর, বায়ুসেনার ২১ ডিসেম্বর এবং সেনাবাহিনীর ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা করা হল।
অগ্নিপথ প্রকল্পে নতুন অধ্যায়
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রশিক্ষিত অগ্নিবীরদের আরও বেশি সময় বাহিনীতে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত সেনাকর্মী হওয়ার জন্য তাঁদের সামনে অতিরিক্ত সময় ও সুযোগ থাকবে। তবে নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত যোগ্যতা, নির্বাচন পদ্ধতি এবং তিন বাহিনীতে তা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, অগ্নিপথ প্রকল্পের চার বছরের কর্মপর্বে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ ছয় বছরে পৌঁছনোর এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রতিরক্ষা নিয়োগ ব্যবস্থায় নতুন দিশা তৈরি করতে পারে।
ব্যুরো নিউজ, ৪ নভেম্বর ২০২৬: অগ্নিপথ প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা কেন্দ্রের। এবার থেকে অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ চার বছরের পরিবর্তে ছয় বছর হতে চলেছে। অর্থাৎ, প্রাথমিক চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও দু’বছর সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাবেন অগ্নিবীরদের একটি বড় অংশ। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমণি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক চার বছর শেষে নিয়মিত সেনাকর্মী হিসেবে নির্বাচিত না হওয়া ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে আরও দু’বছরের জন্য কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। ফলে তাঁদের মোট চাকরির মেয়াদ দাঁড়াবে ছয় বছর। এই অতিরিক্ত সময়ের শেষে নির্ধারিত যোগ্যতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া পূরণ করতে পারলে নিয়মিত সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগও থাকবে। তবে এই সুযোগকে স্থায়ী নিয়োগের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।
কাদের জন্য বাড়ছে চাকরির মেয়াদ?
অগ্নিপথ প্রকল্পের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, চার বছরের প্রশিক্ষণ ও কর্মপর্ব শেষে প্রতি ব্যাচের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা এবং বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেনাকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা যায়। বাকি ৭৫ শতাংশের চার বছরের মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের বাহিনী ছাড়ার কথা ছিল।
নতুন সিদ্ধান্তে সেই ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরের জন্য আরও দু’বছর কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ, যাঁরা প্রথম পর্যায়ে স্থায়ী নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হবেন না, তাঁদেরও অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে। অতিরিক্ত দু’বছরের পর নিয়মিত বাহিনীতে যোগদানের জন্য নতুন করে নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচিত হতে হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন
অগ্নিবীরদের নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষার আগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চার বা ছয় বছরের চাকরির সময় অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে অগ্নিবীরদের স্কিল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর বাইরে ভবিষ্যতে অন্য কর্মক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ পেতেও এই শংসাপত্র সহায়ক হতে পারে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
২০২২ সালের জুন মাসে অগ্নিপথ প্রকল্প চালু করেছিল কেন্দ্র। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনায় চার বছরের জন্য তরুণদের নিয়োগ করা হয়। বাহিনীকে আরও তরুণ ও আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল।
তবে প্রথম ব্যাচের চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় যত এগিয়ে আসছিল, ততই অভিজ্ঞ অগ্নিবীরদের ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল। প্রথম ব্যাচে তিন বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ২৪,৪০০ জন নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৮,৩০০ জনের ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
নৌসেনার প্রথম ব্যাচের মেয়াদ ২১ নভেম্বর, বায়ুসেনার ২১ ডিসেম্বর এবং সেনাবাহিনীর ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা করা হল।
অগ্নিপথ প্রকল্পে নতুন অধ্যায়
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রশিক্ষিত অগ্নিবীরদের আরও বেশি সময় বাহিনীতে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত সেনাকর্মী হওয়ার জন্য তাঁদের সামনে অতিরিক্ত সময় ও সুযোগ থাকবে। তবে নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত যোগ্যতা, নির্বাচন পদ্ধতি এবং তিন বাহিনীতে তা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, অগ্নিপথ প্রকল্পের চার বছরের কর্মপর্বে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ ছয় বছরে পৌঁছনোর এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রতিরক্ষা নিয়োগ ব্যবস্থায় নতুন দিশা তৈরি করতে পারে।










