রাজ্যজুড়ে নতুন পঞ্চায়েত ভবন, স্বচ্ছ নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে নতুন পঞ্চায়েত ভবন নির্মাণ এবং ৭১৯০টি শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৪নভেম্বর ২০২৬:কালীপুজোর পরেই পঞ্চায়েত দফতরে বড়সড় নিয়োগের ঘোষণা। রাজ্যের গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানালেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

পঞ্চায়েত দফতরে প্রায় ৭ হাজার ২০০ জনকে নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। শুধু কর্মসংস্থানই নয়, যাঁরা এখনও সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় বাড়ি পাননি, আগামী দু’বছরের মধ্যে তাঁদেরও বাড়ি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবার বিধাননগরের মৃত্তিকাভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক। গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় ওই বৈঠকে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, কালীপুজোর পরেই পঞ্চায়েত দফতরে ৭ হাজার ২০০ জনকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে নতুন আশার আলো তৈরি করতে পারে।

এদিন গ্রামীণ আবাসন প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা এখনও পর্যন্ত বাড়ি পাননি, তাঁদের আগামী দু’বছরের মধ্যে বাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ গ্রামীণ এলাকার যে সমস্ত পরিবার এখনও পাকা বাড়ির অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের কাছে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের আমলে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, অতীতের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট করেছেন, গ্রামীণ উন্নয়নের প্রকল্পগুলিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

একদিকে পঞ্চায়েত দফতরে ৭,২০০ জনের নিয়োগের ঘোষণা, অন্যদিকে আগামী দু’বছরের মধ্যে বাড়ি না পাওয়া উপভোক্তাদের আবাসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি—দুটি ঘোষণাই রাজ্যের গ্রামীণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ঘোষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নিয়োগের ক্ষেত্রে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং আবাসন প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হোক। কারণ কর্মসংস্থান ও মাথার উপর একটি পাকা ছাদ—এই দুই স্বপ্নই আজও অসংখ্য পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।**