টক্সিক ওয়ার্ককালচার! ভারতীয় কলিগ মানতে নারাজ প্রবাসী কলিগের টাইমিং

ভারতীয় কর্মীদের ব্যক্তিগত সময় বিসর্জন দিয়ে অফিসের কাজ করার কারণ কী? কর্মক্ষেত্রে এই আত্মত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে কোন কারণগুলি?

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: ভারতীয় কর্মীদের কি তবে বিদেশি সহকর্মীদের সময় মেনেই চলতে হবে? আমেরিকার সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের সুবিধার জন্য প্রতিদিন অফিসের সময় পেরিয়েও মিটিংয়ে বসতে হচ্ছে ভারতীয় কর্মীদের। এমনই এক অভিজ্ঞতা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন এক ভারতীয় পেশাদার। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার কর্মীরা বিকেল ৫টায় কাজ শেষ করে ব্যক্তিগত জীবনে ফিরতে পারলে ভারতীয় কর্মীদের ক্ষেত্রেই কেন সেই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না?

সম্প্রতি Reddit-এর Indian Workplace ফোরামে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ওই কর্মী। তাঁর অভিযোগ, আগে প্রতিদিনের টিম মিটিং বা স্ট্যান্ড-আপ কল হত সকালে। কিন্তু আমেরিকায় কর্মরত এক সহকর্মীর সুবিধার জন্য সেই মিটিং সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সন্ধ্যা ৬টায়। আমেরিকার ডে-লাইট সেভিং টাইম পরিবর্তনের পর সময় আরও পিছিয়ে দাঁড়িয়েছে সন্ধ্যা ৭টা!

সকাল ৮টা বা ৯টা থেকে কাজ শুরু করে সারাদিনের দায়িত্ব সামলানোর পর সন্ধ্যা ৭টা বা সাড়ে ৭টায় ফের মিটিংয়ে যোগ দিতে হচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগত সময়, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা বিশ্রামের সুযোগ কার্যত হারিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওই কর্মীর।

ওই কর্মীর প্রস্তাব, সপ্তাহে দু’দিন ভারতীয় কর্মীদের সুবিধামতো সন্ধ্যায় এবং বাকি দু’দিন আমেরিকার কর্মীদের সুবিধামতো সকালে মিটিং করা হোক। এমনকী, বুধবার বিশেষ কোনও আলোচনা না থাকলে সেই দিনের মিটিং বাতিল করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তাঁর আরও অভিযোগ, আমেরিকায় কর্মরত সহকর্মীরা স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার পর সাধারণত অফিসের কাজ বন্ধ করে দেন। কাজের সময়ের পরে মেসেজ পাঠালে উত্তরও মেলে পরের দিন। তাঁদের ব্যক্তিগত সময়কে সম্মান করা হলে ভারতীয় কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর হওয়া উচিত।

এই পোস্ট ঘিরে Reddit-এ শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেউ ভারতীয় কর্মীদের প্রতি একতরফা কাজের চাপের অভিযোগ তুলেছেন, আবার কেউ আন্তর্জাতিক টিমে কাজের ক্ষেত্রে সময়ের সমন্বয়কে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন। কয়েকজনের মতে, কর্মীদের নিজেদের সমস্যার কথা ম্যানেজমেন্টের কাছে স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।

আসলে এই বিতর্ক শুধু একটি মিটিংয়ের সময় নিয়ে নয়, বরং আন্তর্জাতিক কর্পোরেট দুনিয়ায় কর্মীদের সমান অধিকার, কাজের সময়ের সীমা এবং ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সম্পর্কিত খবর