কড়া নির্দেশিকা WHO-এর! ১০ বছরের কম বয়সিদের ওজন কমাতে ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) শিশুদের স্থূলতা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে। নয় বছরের কম বয়সীদের জন্য ওজন কমানোর ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়, তবে ১০-১৯ বছর বয়সীদের জন্য বিশেষ শর্তে সুপারিশ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: শিশুদের বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকদের জন্য বড় বার্তা দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। ছোটদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করতে চটজলদি ওজন কমানোর ওষুধ কিংবা অস্ত্রোপচারের পথে হাঁটা যাবে না। বিশেষ করে ১০ বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে WHO। শিশুদের স্থূলতা মোকাবিলায় এই প্রথম বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাটি।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১০ বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে GLP-1 শ্রেণির ওজন কমানোর ওষুধ কিংবা গ্যাস্ট্রিক বাইপাসের মতো অস্ত্রোপচার সুপারিশ করা হচ্ছে না। বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। অত্যধিক স্থূলতা, টাইপ-১ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে এবং অন্তত ছ’মাসের জীবনযাত্রা পরিবর্তনের কর্মসূচিতে সুফল না মিললে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এই চিকিৎসা বিবেচিত হতে পারে।

কেন এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে WHO? সংস্থার ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১৭ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি শিশুর বয়স ৫ থেকে ৯ বছরের মধ্যে।

ভারতের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। CNNS-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি ২ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় ভুগছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশব থেকেই সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।